Logo

ক্যাম্পাস

বৃষ্টিতে ভিজে জবি শিক্ষার্থীদের বিজয়োল্লাস

Icon

জবি প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ০৮:২৪

অ
বৃষ্টিতে ভিজে জবি শিক্ষার্থীদের বিজয়োল্লাস

বৃষ্টিতে প্রাণ উজাড় করে বিজয়োল্লাসে মত্তো শিক্ষার্থীরা | ছবি : বাংলাদেশের খবর

চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসতেই বিজয়ের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ঠিক তখনই নামে মুষলধারে বৃষ্টি। তবে তাতে থেমে থাকেনি তাদের উল্লাস, বৃষ্টিতে ভিজেই চলে বিজয়ের আনন্দ-উৎসব।

টানা তিন দিনের আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায়। সাড়ে সাতটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বাড়িয়ে প্রথম দাবির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা অচিরেই শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।

দাবি আদায়ে আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী কিশোর সাম্য বলেন, তারা দাবি মেনে নিয়েছেন, এটা আমাদের বড় অর্জন। আমরা আন্দোলনে লেটার মার্কে পাশ করেছি। বাজেট পুরোপুরি না বাড়লেও ১৯/২০ হবে, এটা মোটেই ১০/২০ নয়। তারা আমাদের আশ্বাস দেননি, বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন সময় দিতে হবে, রেজুলেশন হবে।

শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, আমাদের চারটি দাবির মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে। খুব সন্তুষ্ট নই, তবে খুশি। কারণ আমরা কোনো আশ্বাস পাইনি—আমরা বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, টানা তিনদিন আন্দোলনের পর আমরা বিজয়ী হয়েছি। এই আনন্দ উদযাপন করব ধুমধাম করে।

আরেক শিক্ষার্থী মাহফুজ হোসেন বলেন, দাবি আদায় সহজ ছিল না। তাই এই অর্জনের আনন্দটাও অনেক বড়। সবাইকে নিয়ে এই বিজয় উদযাপন করতে চাই।

জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ বলেন, এই শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতীয় বীর। তারা যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছে, তা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টান্ত। শুক্রবার হওয়া সত্ত্বেও অর্থ, শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আমরা তুলে ধরেছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বাস্তবতা। আমাদের প্রতিটি দাবি কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

দাবি আদায়ে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন বলেন, এই আন্দোলনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর আগে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমন নজির দেখা যায়নি। আমরা ইতিহাস গড়েছি।

চার দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গণঅনশনে বসেন। সন্ধ্যায় ইউজিসি চেয়ারম্যান সকল দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করেন।

  • জান্নাতুন/এটিআর
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন