সাম্য হত্যা : ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঢাবি সাদা দলের
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৫, ১৪:২৬
সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঢাবি সাদা দলের /ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। এই সময়ের মধ্যে সাম্য হত্যার প্রকৃত খুনিকে না বের করতে পারলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
রোববার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানবনবন্ধনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
এ সময় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, সাম্য মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। সাম্য হত্যার আজ পাঁচ দিন পূর্ণ হল। এই পাঁচ দিনে আমরা একটি আইওয়াশ অ্যারেস্ট দেখেছি যা আমরা মানতে বাধ্য না। সাম্য হত্যার প্রকৃত হত্যাকারীকে সেটি বের করার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরাল দাবি জানাচ্ছি। আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি; এর মধ্যে যদি সাম্য হত্যার প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করা না হয় তাহলে আমরা আরো জোরালো আন্দোলনে যাব।
তিনি বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করব না। সাম্য হত্যার মোটিভকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে চাচ্ছে একটি গ্রুপ। আগে সাম্য হত্যার বিচার হবে তারপর আমরা অন্য আলাপ করব। দুই মাস আগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হত্যাকে করা হয়েছে। সেই বিচার হয়নি। ঢাবিতে অনেক হত্যার ঘটনা ঘটেছে, বিচার হয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলবে, সাম্য হত্যার বিচার থেকে শুরু করেন।
তিনি আরো বলেন, এই নয় মাস সংস্কারের বুলি আওরাচ্ছে সরকার। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখতেছি না। শুধু গুম, খুন, আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভোগতেছি। কোনো রকমের সিকিউরিটি সরকার দিতে পারছে না। সরকারকে বলবো আগে দেশকে ভালোবাসেন। দেশের জন্য কাজ করেন। খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সরকার টিকতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না। দেশের জন্য কাজ করেন আমরা সবাই আপনার পাশে থাকবো। দেশের জন্য কাজ না করলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। দেশকে অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে আসছেন আপনারা। সাম্যকে টার্গেটেড কিলিং করা হয়েছে। তাকে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে আমরা সাধারণ লোক সেভাবে আঘাত করতে পারব না। প্রকৃত খুনিকে বের করতে হবে। বিচার করতে হবে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতি হিসাবে অত্যন্ত লজ্জিত আমার যে ভূমিকা সেটা আমি পালন করতে পারিনি। নাগরিক হিসাবে আমার যে দায়িত্ব সেটা আমি পালন করতে পারছি না। একজন বাবার কাছে সন্তানের লাশ অনেক ভারি। একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীর লাশ অনেক ভারি, অনেক বেদনাদায়ক, কষ্টদায়ক। সেই ক্যাম্পাসে আমরা দেখছি আমার শিক্ষার্থী দুর্বৃত্তের ছুরির আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছে। আমাদের এই ক্যাম্পাস নিরাপদ না নিরাপদ করতে পারছি না।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট একজন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই সরকার পতনে সাম্যের ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাম্যের ভূমিকা অবিরামভাবে চলছে। সেই বিনির্মাণ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তারা সাম্যসহ আরো অনেককে টার্গেট করেছে যাতে সেই পরাজিত শক্তির বিচরণ এই ক্যাম্পাসে হয়। এখনো সেই পরাজিত শক্তি ক্যাম্পাসে অবাধে বিচরণ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সাম্য হত্যার বিচার দাবি করছি। আর যাতে কেউ হত্যার শিকার না হয় সেজন্য আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানাচ্ছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ঢাবির শিক্ষক হিসাবে আমি লজ্জিত হই যখন দেখি আমার ছাত্র, আমার সন্তান অন্যের হাতে জীবন দিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে যখন দেশের শিক্ষক সমাজ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাঁড়ায় তখন জাতি বুঝতে পারে এটি কতটা বেদনাদায়ক।
মানববন্ধনে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আলী জিন্নাহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

