Logo

ক্যাম্পাস

ডাকসু-জাকসু নির্বাচন আসন্ন হলেও কুকসু বাস্তবায়নে নেই কোনো উদ্যোগ

Icon

ইমতিয়াজ রিফাত, কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৪

ডাকসু-জাকসু নির্বাচন আসন্ন হলেও কুকসু বাস্তবায়নে নেই কোনো উদ্যোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছাত্র সংসদ (কুকসু) গঠনে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে—এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও হতাশা।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ১৯ বছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মুক্তবুদ্ধি চর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি। যদিও কাগজে-কলমে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে রাজনীতি পুনরায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে ছাত্র সংসদ গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তবে প্রশাসনের উদাসীনতা ও সময়ক্ষেপণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র সংসদ গঠনের অপরিহার্যতা ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, ছাত্র সংসদ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় কঠিন হয়ে পড়বে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এক বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেছিলেন, ‘আমরা এখনো কিছু ভাবছি না। নিজে থেকে কোনো চিন্তা করছি না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখছি। তারা যদি কোনো ফর্মাল প্রক্রিয়া গ্রহণ করে, তখন আমরাও ভাবব।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ও প্রস্তুতি চললেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারুক নাহিয়ান বলেন, ‘কুকসু গঠিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির আশ্রয় নিতে হবে না। গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে অধিকার আদায় সম্ভব হবে। তবে, এখনো অনেক শিক্ষার্থী কুকসু কী, কেন প্রয়োজন—তা জানে না। সচেতনতা বাড়ানো দরকার। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব—আইনি জটিলতা থাকলেও দ্রুত কুকসু গঠন করুন।’

আইন বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেছা আশা বলেন, ‘ছাত্র সংসদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কুকসু ছিল অন্যতম প্রধান দাবি। কিন্তু এখনো প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভুইঁয়া বলেন, ‘কুকসু এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রগতি থাকলেও কুবিতে কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মতভেদ। কেউ চাইছে আগে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত হোক, তারপর নির্বাচন। আবার কেউ মনে করছে, শিক্ষক রাজনীতি চললেও শিক্ষার্থীদের অধিকার দাবিয়ে রাখা হচ্ছে।

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘ছাত্রদল সবসময় ছাত্র সংসদের পক্ষে। তবে, আগে রাজনীতি উন্মুক্ত করতে হবে। গুপ্ত রাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীরা যোগ্য প্রতিনিধি চিনতে পারছে না। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি ছাড়া কুকসু নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।’

অন্যদিকে কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন, ‘সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ থাকা জরুরি। আইনের দোহাই দিয়ে ছাত্র সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। শিক্ষক রাজনীতি চললেও শিক্ষার্থীদের দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদের দাবি—ক্যাম্পাসে প্রথম নির্বাচন হতে হবে কুকসু।’

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন। আইনি জটিলতা থাকলে প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চাইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন হলে আমাদের এখানেও হবে। খুব শিগগির এ বিষয়ে মিটিং ডাকা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন