গোবিপ্রবির আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯:৫৬
ছবি : সংগৃহীত
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান ও স্বাদ কম হওয়া সত্ত্বেও মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। তারা মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবারের প্রত্যাশা করলেও তা বাস্তবে মিলছে না।
প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির ঘাটতি, মানহীন উপকরণ, অস্বাস্থ্যকর রান্নার পরিবেশ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য করছে বাইরে খাওয়া বা নিজেই রান্না করার পথে যাত্রা করতে। চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ-প্রতিটি উপকরণের মানের ঘাটতি শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে। তারা অভিযোগ করেন, রান্নার জন্য ব্যবহৃত চাল অনেক সময় নিম্নমানের হয়। ডাল বা সবজিতে পোকা পাওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে। তেলের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হলের খাবারের মান খুব ভালো নয়। একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন এই খাবারে পাওয়া যায় না। চল্লিশ (৪০) টাকায় যা খাবারের মান হওয়া উচিত, তা আসছে না। এছাড়া হলে রাইস কুকার, হিটার ও ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা নিজেরা রান্না করতে পারছি না।’
স্বাধীনতা দিবস হলের শিক্ষার্থী কাব্বিরুল ওমর বলেন, ‘তরকারি, মাছ ও মাংস মোটামুটি খাওয়া যায়। তবে ভাতের মধ্যে মাড়ের মতো গন্ধ লাগে, যা খেতে খারাপ লাগে। বিষয়টি হলে প্রোভোস্ট দেখলে ভালো হবে।’
বিজয় দিবস হলের শিক্ষার্থী জোনায়েদ হাসান বলেন, ‘আমি প্রধানত বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস হলের খাবার খাই। মান প্রায় একই, শুধু দাম পরিবর্তিত হয়। সকালে রান্না করা খাবার রাতে কম দামে বিক্রি করা হয়। রান্না ঘরও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে।’
এ বিষয়ে বিজয় দিবস হলের প্রোভোস্ট ড. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি মনে করে খাবারের দাম বেশি আর মান কম, তবে এটি পুরোপুরি সত্য নয়। বাজার খরচের উপর নির্ভর করে আমরা সীমিত মূল্যে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। চল্লিশ (৪০) টাকায় ভালো মানের খাবার দেওয়া সহজ নয়। সবজির দামও বেশি। রান্নার স্বাদ বৃদ্ধির জন্য আমরা রাধুনিদের নির্দেশ দিচ্ছি। টেবিলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নির্দিষ্ট সময়ে কিছুটা খারাপ থাকতে পারে, তবে সচরাচর এটি রক্ষা করা হয়।’
শেখ রাসেল হলের প্রোভোস্ট নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘স্টুডেন্টদের তদারকির মাধ্যমে আমরা খাবারের মান উন্নয়নের চেষ্টা করছি। যারা স্বনির্ভর প্রকল্প থেকে এসেছে, তাদের মাধ্যমে কিছু উন্নতি সম্ভব। আমরা খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে সব ঠিক করার চেষ্টা করব।’
স্বাধীনতা দিবস হলের প্রোভোস্ট ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজেও ধারাবাহিকভাবে হলে খাই। আমরা ৪০, ৫০ ও ৬০ টাকার খাবারের প্যাকেজ রেখেছি। শিক্ষার্থীরা চাইলে ন্যূনতম খাবার প্যাকেজও ২৫ টাকায় নিতে পারেন। ভাতের মান উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে বাজার নিজেই করলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। হলের ডাইনিং পরিচালনায় থাকা সবাইকে বিষয়টি হ্যান্ডেল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো অভিমত থাকলে সেটাও সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
- এমআই

