Logo

ক্যাম্পাস

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ইবির মশাল মিছিল

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ২১:১৪

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ইবির মশাল মিছিল

ছবি : বাংলাদেশের খবর

উত্তরবঙ্গের মানুষকে বন্যার কবলে পড়া থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি যাত্রা শুরু করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে এবং প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মশাল মিছিলে অংশ নেয় শহরের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও হাজারো শিক্ষার্থী।

মিছিলকারীরা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক নীতি ও দাবি তুলে ধরে 'জাগো বাহে, কোনটে সবাই', 'উত্তরবঙ্গের কান্না, আর না আর না', 'উত্তরবঙ্গ ভাসে, ইন্টেরিম হাসে', 'ভারত যদি বন্ধু হও, ন্যায্য পানির হিস্যা দাও', 'চুক্তি নিয়ে টালবাহানা, আর না আর না' ও 'তিস্তা পাড়ের সাথে, ইবিয়ানরা আছে'—এরকম স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, উত্তরবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে শস্যোৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলেও সব সরকারই এক ধরনের বৈষম্য করে এসেছে। বিগত কয়েক দশকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি, ফলে প্রতি বছরই উত্তরাঞ্চলের মানুষ বন্যা-ফর্দে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আশা হয়েছিল ইন্টেরিম সরকার তিস্তা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেবে, কিন্তু দেড় বছর পার হয়ে গেলেও কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা নভেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার দাবি আটকে দিয়েছেন।

ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, 'দশকের পর দশক উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত হয়েছে। গতবছর বন্যায় আমরা দেখেছি কীভাবে বসতবাড়ি নদীর সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোনো মানবিক ব্যক্তি এই দৃশ্য দেখে নির্বিকার থাকতে পারবে না। ইন্টেরিম সরকারকে উত্তরবঙ্গ ঘুরে সেখানকার মানুষের জীবনমান পর্যালোচনা করে নভেম্বরের মধ্যে তিস্তা প্রকল্পের কাজ অগ্রসর করার অনুরোধ করছি।'

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার সাবেক সহসমন্বয়ক গোলাম রব্বানী বলেন, 'প্রতিবছরই আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে যাই, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান পাই না। তিস্তা মহাপরিকল্পনাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। গতকাল রংপুর বিভাগেও প্রায় শতকিলোমিটারব্যাপী বিশাল মশাল মিছিল হয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের কাছে আমাদের একটাই আহ্বান-যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শুরু করুন।'

শাখা (বৈছাআ) সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, 'তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন একদিনের নয়, এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। উত্তরবঙ্গের ইতিহাসে বহু বিদ্রোহের রক্ত দিয়ে অধিকার আদায় হয়েছে। যদি বৈষম্য দূর না করা হয়, হাজারও আবু সাইদ নতুন করে আত্মত্যাগ করতে বাধ্য হবে—তারপরও আমরা থামব না।' তিনি আরও বলেন, 'যদি আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু না হয় তাহলে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রসমাজকে নিয়ে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।'

মঞ্চে অন্য নেতারা বলেন, তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা আদায় না হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্পায়ন দুর্বল থেকে যাবে; নদীর স্বাভাবিক স্রোত ফিরিয়ে আনা না হলে জনজীবন ও অর্থনীতিতে গভীর ক্ষতি হবে।

মশাল মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা মা তিস্তার নিরাপত্তা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার ত্বরান্বিত বাস্তবায়নের জন্য একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা দাবি করেন-প্রকল্পটি শুরু হলে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘ স্রোত সমস্যা অনেকাংশে মিঠে হবে এবং স্থায়ী উন্নয়নের দিক খুলে যাবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিছিল-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাসহ সহযোগিতা করেছে বলে জানা গেছে।

  • এস.এম. শাহরীয়ার স্বাধীন/এমআই

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন