নতুন বছরে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৬
২০২৫ পেরিয়ে ২০২৬ এ পদার্পণ। নতুন এক বছর শুরু। এই নতুন বছরকে ঘিরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়েই আজকের আয়োজন। ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন আমাদের গোবিপ্রবি প্রতিনিধি রাসেল হোসাইন।
প্রতি মুহূর্তে বাচিয়ে রাখার প্রতিজ্ঞা
২০২৫! জীবনের সব থেকে meaningful এক বছর। সবসময় বাবা-মার ছায়ায় বড়ো হওয়া, আমার প্রথম বাইরে আসা, আশেপাশের মানুষগুলোকে নতুন করে আবিস্কার করা, পুরাতন সম্পর্কগুলোকে নতুন করে জানতে পারা, নিজেকে মূল্য দিতে গিয়ে খুব প্রিয় কিছু জিনিস ছেড়ে দেওয়া সবকিছুই ছিল ২০২৫ এর অংশ। কান্না করেছি, ভেঙে পড়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি এবং আবিস্কার করেছি জীবনের সব থেকে বড় সত্য, নিজের মানসিক শান্তি সবার আগে।

২০২৬! আশা একটাই, নিজেকে নিজের মধ্যে ধরে রাখা। কোনো প্ল্যানিং না করে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা, খুশি রাখা, পজিটিভ থাকা সবসময় আর একটা কথা মনে রাখা আমি শ্রাবণী, পৃথিবীর সব ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।
শ্রাবণী ইসলাম
আইন বিভাগ
নতুন বছর মানেই নিজেকে নতুন করে ভাবা
নতুন বছর মানেই নিজেকে নতুন করে ভাবার সুযোগ। ভার্সিটি জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও আত্মগঠনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে এমন কিছু বন্ধুকে পেয়েছি, যাদের সান্নিধ্য আমাকে ধর্মীয় মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি চাই ২০২৬ সালও একইভাবে কাটুক পড়াশোনা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক চর্চার সমন্বয়ে।

যেহেতু ভার্সিটিতে আমরা নতুন পরিবেশে আসি, তাই আমাদের ভালো-মন্দ দুটোই বোঝা দরকার, কারণ আমরা পরিবার থেকে দূরে থাকি। অনেক সময় সবার সঙ্গে সবকিছুতে সঙ্গ না দিলে আপনাকে “ব্যাকডেটেড” বলা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার সঙ্গে সব বিষয়ে সঙ্গ দেওয়া আপনার মুখ্য বিষয় নয়। আপনি কার সঙ্গে মিশবেন, তার থেকেও বেশি জানা দরকার আপনি কার সঙ্গে মিশবেন না। আধুনিকতা মানে নিজের মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়, বরং তা ধরে রেখে চলাই প্রকৃত সচেতনতা। বন্ধু নির্বাচন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বন্ধু আপনাকে ভালো পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হোক বন্ধু নির্বাচনে আরও সচেতন হওয়া এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে জীবনের অংশ করে নেওয়া।
মো: তাওহীদুল ইসলাম
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং
আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেকে যোগ্য করে তোলা
নতুন বছর মানেই এক বুক নতুন স্বপ্ন আর অদম্য সাহসে আগামীর পথে পা বাড়ানো। বর্তমান সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এখন কেবল সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে কর্মমুখী দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে উন্মুখ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই আমাদের এ বছরের প্রধান অঙ্গিকার।

আমরা এখন গতানুগতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সৃজনশীল উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন স্বপ্নে বিভোর। পড়াশোনার চাপের মাঝেও মানসিক প্রশান্তি আর সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখাও আমাদের ভাবনার বড়ো একটি অংশ জুড়ে আছে। গত বছরের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সময়ের সঠিক ব্যবহারে আমরা আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে চাই। এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানবিক কাজে সক্রিয় হওয়া এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের বিশ্বাস, তারুণ্যের শক্তি আর মেধা যখন সঠিক পথে পরিচালিত হবে, তখন যে-কোনো বাধা জয় করা সম্ভব। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়েই শুরু হোক আমাদের এই নতুন যাত্রা। নতুন বছরের এই নতুন আলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সার্থকতা ও সমৃদ্ধি।
মো. তানজিমুল হাসান
আইন বিভাগ
গত বছরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলা
নতুন বছর মানেই আমার কাছে নতুন করে ভাবার সুযোগ, নতুন কিছু করার সাহস। প্রতিটা নতুন বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আমরা চাইলে নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারি। আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে এই বছরে নিজের পড়াশোনাকে আরও মনোযোগ দিয়ে এগিয়ে নিতে চাই। শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়, বরং যা শিখছি, তা যেন ঠিকভাবে বুঝে নিতে পারি— যাতে ভবিষ্যতে সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারি। পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানো, সময়ের মূল্য বোঝা এবং নিয়ম করে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলাও আমার এ বছরের বড় লক্ষ্য।

এখনকার সময় খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখা আজকের দিনে ভীষণ জরুরি। এই বছরে আমি চাই নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সচেতন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং পড়াশোনার চাপের মাঝেও নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখা, সুস্থ থাকার চেষ্টা করা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা— এই বিষয়গুলো আমার কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চাই এই বছরটা হোক নিজের উন্নতির বছর।
আমার বিশ্বাস, আমরা যদি নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করি, তাহলে ধীরে ধীরে হলেও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই বড় জায়গায় পৌঁছানো যায়— এই বিশ্বাস নিয়েই শুরু হোক আমার নতুন বছরের পথচলা।
আরিফিন হাসান আরিশা
লোক প্রশাসন বিভাগ
রাসেল/এসএসকে

