Logo

ক্যাম্পাস

জকসু স্থগিত : অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থীরা

জান্নাতুন নাইম

জান্নাতুন নাইম

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪২

জকসু স্থগিত : অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থীরা

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় মুহূর্তেই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন আগেও যে ক্যাম্পাসে 'প্রথম ভোট' শব্দটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিরবতা ও হতাশা।

লিফলেট বিতরণ, পোস্টার টাঙানো আর প্রার্থীদের ভোেট চাওয়ার ব্যস্ততায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের আনুষ্ঠানিক আনন্দ। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সেই উচ্ছ্বাস আর নেই। বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা-আদৌ কি জকসু নির্বাচন হবে, নাকি আবারও কোনো না কোনো অজুহাতে তা পেছানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন আইন না থাকায় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন হয়নি। গত বছরের ২ জানুয়ারি জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদন পায়। পরে আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচির মধ্যেই চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়নের আগেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে প্রশাসন। সে অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত ছিল।

পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর চূড়ান্ত বিধিমালা অনুমোদনের পর ৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে ২২ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে ভূমিকম্প আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও প্যানেলগুলোর দাবির মুখে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কারণে ৪ ডিসেম্বর সংশোধিত তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচনও স্থগিত হওয়ায় পুরো ক্যাম্পাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক আমেজ ভেঙে পড়ে। আগামী ৬ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও অবাধ হবে কি না-এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ নয়টি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত 'মওলানা ভাসানী ব্রিগেড' প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব বলেন, '৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন দেখা যেত। সময়মতো না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। তবে ৬ জানুয়ারির ভোটকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নেওয়া উচিত। এতে জকসু নির্বাচন ব্যর্থ করার অপচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।'

জাতীয় ছাত্র শক্তি সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান' প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী শাহিন মিয়া বলেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁর আশঙ্কা, ৬ জানুয়ারি বড় অংশের শিক্ষার্থী ভোট দিতে আসবে না। তিনি বলেন, 'সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি প্রয়োজন। তবে সেটি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।'

ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল বলেন, 'একসময় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। আমরা চাই সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।'

ছাত্র শিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, 'নির্বাচন স্থগিতে পূর্বের আমেজ হারিয়েছে জকসু। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনের দায়। তাদের অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।'

ছাত্রী হল সংসদও আমেজশূন্য:

একই পরিবেশ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচন নিয়েও। তবে ভোটার ও প্রার্থীরা যেকোনো মূল্যে জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চান। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থী সংসদ গঠিত হলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলিত হবে।

ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া লিসা বলেন, '৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে যে আগ্রহ ও আবেগ ছিল, এখন তা হতাশা ও নিরাশায় রূপ নিয়েছে। আগের অভিজ্ঞতার কারণে ৬ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও আশ্বস্ত হতে পারছি না।'

আরেক শিক্ষার্থী লুৎফা আক্তার তামান্না বলেন, 'ভোট দিতে অনেকে চাকরির পরীক্ষা ও পারিবারিক অনুষ্ঠান বাতিল করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় হতাশা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আগের উৎসবমুখর পরিবেশ আর ফিরে আসেনি।'

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের 'রোকেয়া পরিষদ' প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী খাদিজা তুল কুবরা বলেন, 'শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামত না নিয়েই নির্বাচনের দিন সকালে স্থগিতাদেশ দেওয়া ছিল চূড়ান্তভাবে অগণতান্ত্রিক। এতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা কমেছে, প্রশাসনের প্রতিও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, ৬ জানুয়ারি যেকোনো মূল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।'

আইএইচ/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর