জকসু নির্বাচন
ব্যালট নম্বর-নামযুক্ত স্লিপ বিতরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১০
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ব্যালট নম্বর ও প্রার্থীদের নামসংবলিত ভোেটার স্লিপ বিতরণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন প্যানেল।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ক্যাম্পাসের রফিক ভবনের নিচে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানায় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলগুলো।
সংবাদ সম্মেলনে, ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে একটি পক্ষ ভোটারদের প্রভাবিত করছে। নারী শিক্ষার্থীদের টোকেন ছিনিয়ে নেওয়া ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। গেটের সামনে ভিড় করে প্যানেল পরিচিতি বই বিতরণ করা হচ্ছে।
রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, শুরুতে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো ছিল। পরে গেটের সামনে ভিড় বাড়ে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁদের প্রার্থী ও ভোটারদের দিকে হামলার চেষ্টা হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তিনি ভোট গণনার সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের জিএস প্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর দেখে ভোেট গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্য প্যানেলের টোকেন দেখালে দায়িত্বরতদের আচরণ ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য, “যদি টোকেন অনুমোদিত হয়, তাহলে সবার জন্য সমানভাবে অনুমোদন থাকতে হবে।”
এ কে এম রাকিব জানান, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন ক্যাম্পাস ও কেন্দ্রে দেখা যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ব্যালট বিষয়ে অনুমতি পাওয়া যায়।
ব্যালট নম্বর ও প্রার্থীদের নামযুক্ত ভোটার স্লিপ বিতরণ নিয়ে অভিযোগ তুলে 'ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান' প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, পোলিং এজেন্টরা নিজ নিজ বুথ থেকে স্লিপ বিতরণ করছেন। নির্বাচন চলাকালে নিয়ম পরিবর্তন করা হলে তা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। তাঁর প্রশ্ন, “যদি এটি অনুমোদিত হতো, তাহলে আমাদের কেন স্লিপ বিতরণ করতে দেওয়া হয়নি?” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভেতরে দুটি বলয় সক্রিয়-যার ফলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, “কেন্দ্রে ব্যালট নম্বর বা এ ধরনের কোনো কিছু নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা আমরা দিইনি।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার দুই দশক পর প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থীর ভোটে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ গঠিত হবে।
জেএন/আইএইচ

