জাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপাচার্য
‘নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে’
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদ্যাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সকালে পুরাতন কলা ভবনের সামনে মৃৎমঞ্চে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, এর পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে। এটিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের একটি পরিবারে পরিণত হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্ষেত্রে অনৈতিকতার চর্চা পরিহার করতে হবে। নৈতিক চর্চা অব্যাহত না থাকলে ভবিষ্যতে আবারও ছাত্র-জনতাকে প্রাণ দিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রবসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান।
এরপর উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অতিথিরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে এবং সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও ছাত্র কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতারা এবং জাকসুর ভিপি ও জিএস বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্মৃতিচারণ, পুতুল নাচ, প্রীতি ফুটবল ও হ্যান্ডবল ম্যাচ। সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, র্যাম্প শো এবং ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া ক্যাম্পাসজুড়ে পিঠা মেলা, আল্পনা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।
আমানউল্লাহ খান/এসএসকে/

