সরস্বতী পূজা : ঢাক-ঢোলের শব্দে মুখর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনির তালে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা, কলা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর পূজা উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে বইছে আনন্দ আর মিলনমেলার হাওয়া। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণিল আয়োজনে পালিত হচ্ছে বাণী অর্চনা।
এদিন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এ বছর জবির ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং একমাত্র ছাত্রীহল মিলিয়ে মোট ৩৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা। সকাল থেকে শুরু হওয়া পূজার আনুষ্ঠানিকতা এখনো চলমান। প্রতিটি মণ্ডপেই দেখা গেছে আলোকসজ্জা, ফুলের সাজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের মিলিত উপস্থিতি ক্যাম্পাসকে দিয়েছে এক উৎসবমুখর রূপ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদসংলগ্ন মাঠ, কলা ভবনের সামনে, শান্ত চত্বর, শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলা, রফিক ভবনের পাশের এলাকা এবং সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের পূজামণ্ডপ বসানো হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজেও পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
পূজায় অংশ নেওয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রাপ্তি সাহা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আজকের দিনটি উদযাপন করছি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তারাও এসেছেন। সবাই একসঙ্গে খুব ভালো লাগছে।’
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ কুমার বলেন, ‘দেবী সরস্বতী বিদ্যা, সংগীত ও কলার দেবী। প্রতি বছর এই পূজার মাধ্যমে আমরা প্রার্থনা করি, যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারি এবং আমাদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত হয়।’

নারী পুরোহিতের মাধ্যমে পূজা :
এদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো সরস্বতী পূজার পৌরোহিত্য করলেন সমাদৃতা ভৌমিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় ইংরেজি বিভাগের পূজায় এ ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। এ বিভাগ ছাড়া বাকি ৩৬টি মণ্ডপের পূজা পরিচালনায় ছিলেন পুরুষ পুরোহিত। তিনি ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
পুরোহিত সমাদৃতা ভৌমিক বলেন, ‘সমাজে পৌরোহিত্যকে এমন একটি কাজ হিসেবে ধরা হয়, যা শুধু ছেলেরাই করবে। তবে আমাদের শাস্ত্রে বলা নেই যে এটি শুধু ছেলেরাই করতে পারবে। শুধু ছেলেরাই না মেয়েরাও যে পারে— এ ধারণাকে সমাজে পৌঁছে দিতে আমার পৌরোহিত্যে আসা। এ বছর নিয়ে টানা তিনবারের মতো পূজা পরিচালনা করছি, ভবিষ্যতেও করব।’
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার থিমে মণ্ডপ :
সরস্বতী পূজার মণ্ডপের সজ্জায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে সংঘটিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরেছে। মণ্ডপের বেদির পেছনের অংশে প্রতীকীভাবে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর আগুনে পোড়ার ছবি রাখা হয়।
পূজার অন্যতম আয়োজক ও বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উপমা বলেন, ‘সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা গণমাধ্যমের ওপর যে বর্বর হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছি এবারের পূজার থিমের মাধ্যমে। একটা দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে সে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না।’
পূজা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘সকাল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এবারের মা সরস্বতীর পূজা পালিত হচ্ছে। পূজা কমিটির সভাপতি হিসেবে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমি প্রক্টরিয়াল বডি ও জকসু কমিটিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে জকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিমের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।’
পরিদর্শন শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘খুবই জাঁকজমক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনার সঙ্গে সরস্বতী পূজা উদযাপন হচ্ছে। আমি প্রত্যেকটি মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি। সকল সনাতনী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। সাড়ম্বরে পালনের জন্য এবার আমরা বাজেট গতবারের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছি।’
জান্নাতুন নাইম/এমবি

