পবিপ্রবিতে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বাধা
পবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫
শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করার প্রতিবাদে পবিপ্রবিতে ছাত্র শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বাঁধা প্রদানে ক্যাম্পাস ঘিরে চলছে হট্টগোল।
২৮ জানুয়ারি(বুধবার) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ছাত্রশিবির সভাপতি জান্নাতীন নাঈম জীবনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে তাদের কিছু স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিল চলাকালীন সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল-০২ এর সামনে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি বিক্ষোভ মিছিল থামিয়ে শিবির সভাপতি জীবনকে বিএনপি এবং ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সোহেল রানা জনি জানতে চান আজকের হত্যাকাণ্ডে বিএনপি জড়িত এ ব্যাপারটা প্রমাণ হয়েছে কিনা? এ সময় ছাত্রশিবির সভাপতি ও ছাত্রদল সেক্রেটারি পরস্পর বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সেসময় শিবির সভাপতি জীবন কথা অসমাপ্ত রেখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হয়ে মুক্তবাংলার সামনে তাদের নেতাকর্মী নিয়ে জড়ো হন।
মুক্তবাংলায় মিছিল পরবর্তী জমায়েতে শিবির সভাপতির বক্তৃতা চলাকালীন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুল ও সেক্রেটারি জনি তার কর্মীদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে করতে এগিয়ে আসেন। শিবির সভাপতির সাথে অনেক সময় ধরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসের মুক্ত বাংলা চত্ত্বরে।
এ সময় দায়িত্বরত এক ক্যাম্পাস সাংবাদিককে তার দায়িত্ব পালনে বাধাস্বরূপ ভিডিও বন্ধের জন্য বারবার হাত দিয়ে ইশারা করতে থাকেন ছাত্রদল সেক্রেটারি সোহেল রানা জনি। এ সময় তাচ্ছিল্যের স্বরে তুই-তোকারি করে সেই সাংবাদিককে সরেও যেতে বলেন জনি।
এরপর ক্যাম্পাসে উভয়দল সহাবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল সেখান থেকে তাদের নেতাকর্মী নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারি। এ সময় তারা শিবিরের বিভিন্ন স্লোগানের বিরোধিতা করেন। তাছাড়া শিবিরের কাজের সমালোচনাও করেন তারা।
পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অশালীন স্লোগান কোনোভাবেই আমারা মেনে নেব না, আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। ইসলামি ছাত্রশিবিরের এই মব কালচারকে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমারা চাই ক্যাম্পাসে সহ-অবস্থানের একটি সুস্থ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরিস্থিতি বজায় থাকুক।’
ছাত্রশিবিরের সভাপতি জান্নাতীন নাঈম জীবন বলেন ‘আমাদের কার্যক্রমে বাঁধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমার মতাদর্শ প্রচার করার স্বাধীনতা আমার আছে। কিন্তু গতকাল ছাত্রদল কিছু অছাত্র নিয়ে এসে আমাদের জনশক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিনষ্ট করেছে। একজন মানুষকে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে যা স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ নৃশংস হত্যার বিচার চাই এবং ভিন্ন মতকে দমনের উদ্দ্যেশ্যে নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই।’
এদিকে, গত ১৪ আগস্ট, ২০২৪ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে সকল প্রকারের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ২৮ জানুয়ারি (বুধবার) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের উপর বিএনপির সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় তিনি নিহত হন। উক্ত ঘটনার পরেই শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়।
মুশতাক আহমেদ/এসএসকে/

