বিশেষ আয়োজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
পর্ব-২ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তরুণ ও শিক্ষার্থী ভোটাররা, যাদের অনেকেই ভোটার হওয়ার পর এই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের ভোটের মাধ্যমে দেশ গঠনের অংশীদার হতে চায় তারা। তাদের প্রত্যাশা— ভোটে নির্বাচিত নেতৃত্ব দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেই ভাবনাই তুলে ধরেছেন -তানজিল কাজী।
নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন বাংলাদেশ চাই
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি ভবিষ্যৎ গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। কারণ জাতীয় সংসদ থেকেই রাষ্ট্রের বাজেট প্রণীত হয়, আর সেই বাজেটের ওপর নির্ভর করে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ, ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও শিক্ষার মান। একটি ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মনে নতুন আশা জাগায় নতুন ল্যাব, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণায় সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পরিবেশের স্বপ্ন।
কিন্তু এই আশার পাশেই রয়েছে গভীর শঙ্কা। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিক্ষাঙ্গনে। ক্যাম্পাসে সংঘাত, দখলদারিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে, কেউ আহত হয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নির্বাচন এলেই আনন্দের সঙ্গে উৎকণ্ঠাও ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীদের।
তবুও ৫ আগস্টে তরুণদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে, পরিবর্তনের শক্তি তাদের হাতেই। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তরুণ শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখছে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন বাংলাদেশের। তারা চায় এমন এক যোগ্য ও দায়িত্বশীল সরকার, যারা শিক্ষা, মানবিকতা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীর বাংলাদেশকে আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নেবে।
মাসুমা বিনতে মুজিব
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সহিংসতা এবং দলীয় দখলমুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই
জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে যে নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে, তার চালিকাশক্তি ছিল শিক্ষার্থীরাই। প্রযুক্তির বিকাশে আজ শহর-গ্রামের ব্যবধান কমেছে, তথ্য ও শিক্ষার আলো পৌঁছেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেড়েছে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ। তারা স্বপ্ন দেখছে এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ মিলবে সবার জন্য।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— কোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি থাকবে না, নারী সমাজ কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে নিরাপদ থাকবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে সহিংসতা এবং দলীয় দখলমুক্ত। সরকার হবে শিক্ষার্থী-বান্ধব, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি গ্রহণ করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে সৃজনশীল ও গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনা চালু করতে হবে, বাড়াতে হবে শিক্ষা খাতে বাজেট ও বৃত্তির সুযোগ।
একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস অবৈধ বাণিজ্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা, কারিগরি ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের দেশে রাখার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের চোখে এভাবেই গড়ে উঠুক একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক প্রগতিশীল আগামীর বাংলাদেশ।
সামিহা সিরাজী লাজ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
তানজিল কাজী/এসএসকে/

