পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে গোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপ
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৮
প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ শুরু করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) তিন রোভারসহ মোট চারজন রোভার স্কাউট। তারা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটায় পৌঁছাবেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে পরিভ্রমণ শুরু হয়। এই পরিভ্রমণে অংশগ্রহণ করছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। তারা হলেন— ইংরেজি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রোভার ইমরান বিশ্বাস ও রোভার অশোক হালদার, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রোভার তরিকুল ইসলাম এবং সরকারি মুকসুদপুর কলেজের শিক্ষার্থী রোভার মুরছালিন।
পরিভ্রমণকারীরা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করে বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা হয়ে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালীতে পৌঁছাবেন। পাঁচ দিনের এই ভ্রমণে তারা বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রোভার ইমরান বলেন, ‘আমি যদি সহজভাবে বলি, পরিভ্রমণ মানে হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করা। তবে সাধারণ ভ্রমণ আর পরিভ্রমণের মধ্যে পার্থক্য হলো— এখানে বিনোদনের চেয়ে শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের বাস্তব দিকটি বেশি গুরুত্ব বহন করে। মূলত প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে ছয়টি পারদর্শিতা ব্যাজের অন্তর্ভুক্ত একটি পরিভ্রমণকারী ব্যাজ রয়েছে। এই ব্যাজ অর্জনের লক্ষ্যেই আমরা এই পরিভ্রমণ করছি।’
পরিভ্রমণ সম্পর্কে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রোভার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিভ্রমণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের খুব কাছাকাছি গিয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাই। ঐতিহাসিক স্থাপনা দর্শন, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারি এবং দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মতো গুণাবলি অর্জনে এটি সহায়ক। সেই সঙ্গে চিত্তবিনোদন ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনের সুযোগ তো আছেই। পাশাপাশি স্মৃতির ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিভ্রমণ ব্যাজ অর্জনের মাধ্যমে আমরা প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মো. মজনুর রশিদ (উডব্যাজার), গোপালগঞ্জ জেলা রোভারের সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব জুবাইর আল মাহমুদ (এ.এল.টি.), অনিক কুমার সাহা (সিনিয়র রোভার মেট), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যবৃন্দ এবং কোটালিপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের সিনিয়র রোভার মেট রোভার অমিত।
এসএসকে/

