নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কুবিতে কর্মচারীদের কর্মবিরতি
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এবং বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা। বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা।
সমাবেশে কুবি কর্মচারী সমিতির নেতারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বেতন মাসের ১০ দিন পার না হতেই শেষ হয়ে যায়। বাকি দিনগুলো ঋণ করে চলতে হয়। বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির কারণে এখন জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুল হাসান বলেন, ‘বর্তমান বাজারে একজন সাধারণ কর্মচারী এক কেজি গরুর মাংস কিনে খাওয়ার সাহস পান না। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে আমাদের এই দুর্দশা থেকে মুক্তি দেবেন।’
বক্তারা ২০১৫ সালের পে-স্কেলের বৈষম্য তুলে ধরে জানান, নিচু গ্রেডগুলোতে বেতনের পার্থক্য নামমাত্র হলেও উচ্চতর গ্রেডগুলোতে এই ব্যবধান কয়েক হাজার টাকা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম বলেন, ‘গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। পে-স্কেলের স্বপ্ন আপনিই দেখিয়েছেন, তাই এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বও আপনার। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে সারাদেশের কর্মচারীরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’
চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের এই আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এমএইচএস

