জবিতে মন্দিরের দাবি : অনুমতি না পেয়ে নিজেরাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩
ছবি : বাংলাদেশের খবর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেরাই মন্দিরের ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ এলাকায় কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। রাতেই দেবদেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর কুমার গয়ালি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হলেও বিভিন্ন অজুহাতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রাথমিক জায়গা নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু সেখানে আমাদের অনুমতি না দিয়ে প্রশাসন শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদেই আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। সারাদিন কোনো সাড়া না পেয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আমরা কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন করেছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস কবে সম্পন্ন হবে সেটার নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান ক্যাম্পাসে আমাদের অল্প কিছু জায়গা হলেই হয়ে যেত। কিন্তু প্রশাসন সেটাও দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন সনাতনী শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছি। উপাচার্য প্রথমে জায়গার সংকটের কথা বললেও পরে আমরা মুক্তমঞ্চের পাশে জায়গা দেখিয়ে দিই। অথচ সেখানে এখন টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, ‘আমাদের অবহিত না করেই প্রস্তাবিত জায়গায় টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই আমরা অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছি।’
জবি সনাতন শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস বলেন, প্রশাসন অনুমতি দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে মন্দির স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করবেন— এ সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কার অনুমতিতে তারা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য মন্দির নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, জায়গা নির্ধারণের এখতিয়ার শিক্ষার্থীদের নেই। ওই স্থানে আগে থেকেই টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা, বাজেট ও অনুমোদন ছিল।
জেএন/এমএইচএস

