বাসচালককে মারধরের অভিযোগ জাবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে, মীমাংসার পর ফের মারধরের দাবি
ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর ও বাসচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর মহাসড়কে সংঘটিত বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের ভেতরে এনে মীমাংসা করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সাভার পরিবহনের একটি বাস যাত্রী তোলার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক মোটরসাইকেল নিয়ে বাসের পাশ দিয়ে ক্রস করে প্রধান ফটকের দিকে ঢোকার চেষ্টা করলে হঠাৎ একটি মিনি পিকআপ ভ্যান সামনে ঢুকে পড়ে। এতে তিনি হার্ড ব্রেক কষে পড়ে যান।
পরে তিনি বাসচালকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বাসের চালকের পাশের জানালার কাঁচে আঘাত করেন। এতে কাঁচ ভেঙে গিয়ে বাসচালক মো. আতিক চৌধুরী ও বাসে থাকা এক নারী যাত্রী হাসনা আক্তার জাহেদা আহত হন। চালকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাচ লেগে কেটে যায় এবং ওই নারী যাত্রীর মাথায় আঘাত লাগে।
ঘটনার পর যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং আহত দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।
প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বাসচালকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসা বাবদ দুই হাজার টাকা দেন বলে জানা গেছে। আহত নারী যাত্রীর চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাসও দেন তিনি।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমি ভুক্তভোগীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং চিকিৎসার খরচ দিয়েছি।’
মীমাংসার পর ফের মারধরের অভিযোগ
এ ঘটনার পর আবারও ওই বাসচালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসচালক আতিক চৌধুরীর দাবি, প্রক্টর কার্যালয়ে সমঝোতার পর তিনি বাসে ফেরার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে বাসে উঠতে বলেন। বাসে ওঠার পর চার থেকে পাঁচজন তাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে তার কাছে কল রেকর্ডসহ তথ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে আইবিএ’র ৫১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীও রয়েছেন, যিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মারধরের পাশাপাশি বাসচালককে ঘটনাটি নিয়ে মুখ না খুলতে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জাবের হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে বাঁচানোর জন্য যাইনি। পলাশ সাহা আমাদের শিক্ষক এই পরিচয়েই সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা গেলে প্রক্টর অফিসে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। সেখানে বরং এনসিপি ও শিবিরের কয়েকজন প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছিল কেন তখন বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছে।’
ফের মারধরের বিষয়টিও অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা ১০ জনের মতো পলাশ স্যারের মোটরসাইকেলের চাবি খুঁজতে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো মারধর হয়নি।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংঘটিত হলেও সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এনে মীমাংসা করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে রক্ষার জন্যই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কেবল ক্যাম্পাস এলাকার ভেতরের ঘটনাই প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। সে হিসাবে মহাসড়কের ঘটনাটি আশুলিয়া থানার আওতাভুক্ত হওয়ার কথা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে হয়েছে এবং তিনি আমাদের শিক্ষক। সে কারণে বিষয়টি আমরা দেখেছি। উভয় পক্ষই প্রক্টর কার্যালয়ে এসেছে এবং সমঝোতা হয়েছে।’
ফের মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এএস/

