১৪ বছরে পদার্পণ করল গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি
গবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫০
কিছু সংগঠন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু সংখ্যা বাড়ায়। আর কিছু সংগঠন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা, দায় আর ইতিহাসের ওজন বহন করে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার ইতিহাসে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস) তেমনই এক নাম। আজ ১৩ বছর পূর্ণ করে ১৪ বছরে পা রেখেছে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠনটি।
২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে গবিসাস। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট– ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের ঘটনাপ্রবাহকে পেশাদার মানে তুলে ধরা।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। সীমিত সুযোগ–সুবিধা, অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা নিয়ে প্রচলিত অবহেলা সবকিছুর মধ্য দিয়েই পথ চলতে হয়েছে সংগঠনটিকে। তবুও গবিসাসের সদস্যরা বিশ্বাস করতেন, সংবাদ কেবল তথ্য পরিবেশন নয়; এটি প্রশ্ন তোলার, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম।
১৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় গবিসাস ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এক স্বতন্ত্র ধারা গড়ে তুলেছে। নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ ও ফিচার লেখার মাধ্যমে সংগঠনটি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে জাতীয় গণমাধ্যমে। একই সঙ্গে তৈরি করেছে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের একটি প্রশিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম।
এই দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় তৈরি হয়েছে নারী নেতৃত্বের হাত ধরে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে এই সংগঠনটি দেশের সাংবাদিক সংগঠনের ইতিহাসেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমিতির ইতিহাসে প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক এসেছে গবিসাস থেকেই। পরবর্তী সময়ে একই সঙ্গে নারী সভাপতি ও নারী সাধারণ সম্পাদক দিয়ে সংগঠনটি নারী নেতৃত্বের এক অনন্য মাইলফলক গড়ে তুলেছে। যা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
গবিসাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এর মানবসম্পদ। এই সংগঠন থেকে উঠে আসা অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত। তাদের সাংবাদিক জীবনের সূচনা হয়েছিল এই ক্যাম্পাস থেকেই। হাতেখড়ি হয়েছিল গবিসাসের ব্যানারে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গবিসাস বরাবরই দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সংকট, শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা কিংবা সামাজিক ইস্যু সব ক্ষেত্রেই সংগঠনটি নীতিগত অবস্থান থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছে। কখনো নীরবভাবে, কখনো প্রতিবাদী কণ্ঠে, কিন্তু সবসময় তথ্যনির্ভর ও সংযত ভাষায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ও সংবাদ পরিবেশ বদলেছে। প্রিন্ট থেকে অনলাইন, অনলাইন থেকে মাল্টিমিডিয়া এই রূপান্তরের ধারায় গবিসাসও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। দ্রুততার চাপে সত্যকে বিসর্জন না দিয়ে যাচাই–বাছাইয়ের গুরুত্ব শেখানোই ছিল সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
১৩ বছরে এসে সংগঠনটি এখন একটি পরিপক্ব সংগঠন। নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব নিচ্ছে, কিন্তু মূল দর্শন অপরিবর্তিত থাকছে। এখানে নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়; বরং দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার বহনের বিষয়।
এই সময়েই গবিসাসের কার্যক্রম কেবল সংবাদকেন্দ্রিক থাকেনি; সংগঠনটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নির্মাণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখে। গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম পিঠা উৎসব, ফার্মাসিস্ট দিবস, বিজু উৎসব, ফল উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরের নামকরণেও গবিসাসের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পরিচয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিসর তৈরি করে। এসব আয়োজন প্রমাণ করে— গবিসাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
১৪ বছরে পা রাখা গবিসাস তাই শুধু অতীতের অর্জন নিয়ে থেমে থাকতে চায় না। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে আরও পেশাদার করা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কণ্ঠকে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরাই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। সবুজ গালিচায় ঘেরা এই ক্যাম্পাসে আজও প্রতিদিন তৈরি হয় নতুন গল্প, নতুন প্রশ্ন। আর সেই গল্পগুলোকে দায়িত্বশীল ভাষায় তুলে ধরার কাজটি করে যাচ্ছে গবিসাস।
শরিফুল ইসলাম রিফাত/এসএসকে/

