গোবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৬
আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের মহান শহিদদের স্মরণে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এ (গোবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সকাল ৮টা থেকে সকল অনুষদ, বিভাগ, আবাসিক হল, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
শহিদদের স্মরণে বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, পৃথিবীর অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও বাংলা ভাষা শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যার পেছনে ভাষা শহিদদের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার আধুনিকায়ন ঘটলেও উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষায় পর্যাপ্ত বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রায় সব বই ইংরেজিতে পড়তে হয়। সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধিতে গবেষকদের আরও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক ভাষা কেন্দ্র চালুর চেষ্টা চলছে বলেও জানান উপাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, আধুনিক যুগে মানুষের মত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো তার মাতৃভাষা। মাতৃভাষা রক্ষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদান বাঙালি জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির চেতনার একটি জায়গা এবং একুশই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে পথ দেখিয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মাদ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মজনুর রশিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন মো. আব্দুর রহমান, এএসভিএম অনুষদের ডিন ড. মাহবুব হাসান, রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান, প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্র পরামর্শ নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. বদরুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দিবসের কর্মসূচি হিসেবে মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

