পবিপ্রবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ
ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২৫
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম–এর দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নীতিমালা অনুসরণ না করে উপাচার্য তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড মূলত সরকারের রাজস্ব খাতভুক্ত কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারী (এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের) আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ও বিশেষ অনুদান প্রদানের জন্য এ তহবিল ব্যবহৃত হওয়ার কথা।
নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য আবেদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা যেতে পারে। কেউ ‘চরম আর্থিক সংকটে’ পড়লে মূল বেসিক বেতনের দ্বিগুণ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে মাসিক দুই হাজার টাকা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তিন হাজার টাকা এবং লাশ পরিবহনে দুই হাজার টাকা প্রদানের নিয়ম আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কাছে আসা তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম টিটু মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ডেপুটি রেজিস্ট্রার শরীফ মেহেদী নিজের অসুস্থতার কারণে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু বক্কর ছেলের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালের ২৮ মে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালাল সন্তানের অসুস্থতা বাবদ এক লাখ ২৭ হাজার টাকা কল্যাণ তহবিল থেকে উত্তোলন করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমান উপাচার্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুতর অসুস্থতা ও ‘চরম আর্থিক সংকটে’ সহায়তার উদ্দেশ্যে গঠিত এ তহবিল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তি নীতিমালার পরিপন্থী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য। সরকারি বেতন স্কেল ও বিভিন্ন ভাতাসহ তাঁরা মাসে প্রায় এক লাখ বা তার বেশি বেতন পান। এ অবস্থায় কীভাবে তাঁরা কল্যাণ তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পেলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, “উপাচার্যের দৌরাত্ম্যে কয়েকজন কর্মকর্তার কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা চলছে। স্বচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এভাবে অর্থ উত্তোলন করেন, তবে তা নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে যে কেউ ইচ্ছামতো তহবিল থেকে অর্থ নিতে চাইবে।”
কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনকারী কর্মকর্তা শরীফ মেহেদী বলেন, “আমি আর্থিক সংকটে ছিলাম। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেই নিজের অসুস্থতার জন্য কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অর্থ ও হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে আমি মনে করি না। লিখিত আবেদনে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক অবস্থা আমার পক্ষে সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়।”এএস/

