Logo

ক্যাম্পাস

কুবিতে কোটা ব্যাবহার করে ১৬ হাজারের বেশি পজিশনেও ভর্তির সুযোগ, সমালোচনার ঝড়

Icon

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৯

কুবিতে কোটা ব্যাবহার করে ১৬ হাজারের বেশি পজিশনেও ভর্তির সুযোগ, সমালোচনার ঝড়

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সব জায়গা থেকে কোটা বাতিলের দাবি উঠলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এখনো বহাল রয়েছে কোটা। সম্প্রতি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর কোটায় ভর্তি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) প্রকাশিত প্রথম মেধাতালিকায় দেখা যায়, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদভুক্ত 'এ' ইউনিটে ১৬,২৮৪ মেরিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ফার্মেসি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, যেখানে মেধাতালিকায় ফার্মেসি পেয়েছে সর্বশেষ ৯১ মেরিট পর্যন্ত। আরেকজন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ১৫,৮১১ মেরিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। যেখানে 'এ' ইউনিটে মেধাতালিকায় সর্বশেষ ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৩১১ মেরিট পর্যন্ত। 

কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত 'বি' ইউনিটে দেখা যায়, সর্বশেষ ১২,৭৫২ মেরিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এবং ১২,০১৯ মেরিটে পোষ্য কোটায় ভর্তি সুযোগ পেয়েছে। যেখানে মেধাতালিকায় সর্বশেষ ভর্তি সুযোগ পেয়েছে ২৫৬ মেরিট পর্যন্ত। 

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ভর্তি নির্দেশিকা অনুসারে, কুবিতে মোট আসন রয়েছে ৮৯০ টি। মোট আসনের ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫টি আসন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/ উপজাতি/অ-উপজাতির জন্য ১৮টি, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ৬টি, পোষ্য কোটায় ১৯টি এবং বিকেএসপি সনদ প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের জন্য রয়েছে ১৯টি-সহ মোট ১০৭টি আসন কোটায় বরাদ্দ রয়েছে, যা মোট আসনের ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

মেরিট পজিশনে দূরে থেকেও কোটায় ভর্তির সুযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'এই যুগে এসেও মুক্তিযোদ্ধাদের ২য় প্রজন্মের জন্য কোটা রাখা অত্যন্ত অযৌক্তিক। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও তাদের সন্তানদের জন্য আলাদা কোটা কেন থাকবে? তাঁরা সরকার থেকে উচ্চ বেতন ও নানা সুবিধা পান, আবার তাঁদের সন্তানদের কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।'

তিনি উল্লেখ করেন, 'আমি এই দুই ধরনের কোটাকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই– এই অপ্রয়োজনীয় কোটাগুলো বাতিল করা হোক। প্রয়োজনে এই কোটার জায়গায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবুও এই অযৌক্তিক কোটা বাতিল করা প্রয়োজন।'

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মো. ফরিদ হাসান অন্তর নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, 'যেই কোটার জন্য এতকিছু, সেই কোটাতে ১৬ হাজারের বেশি মেরিট থেকে ফার্মেসি পেয়ে গেলো। চেতনা এখনো যায়নি বাঙালিদের।'

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ' যখন ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানেই কোটার কথা উল্লেখ করা ছিল। যেটা বিজ্ঞপ্তি হয়ে গেছে এখন তো আর সেটা বাদ দেওয়া যাবে না।'

পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে কোটার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।'

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর