নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে হল প্রভোস্টকে কল করায় সিট বাতিলের হুমকি
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৭
‘অফিস সময়ের বাইরে আমাকে ফোন করা যাবে না।’ অসুস্থ এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এমন মন্তব্য করেন— এমন অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে এক সিনিয়র রুমমেটের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ ও আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন ওই সিনিয়র শিক্ষার্থী। অভিযোগকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা অক্সিজেন দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘অফিস সময়ের বাইরেও শুক্র-শনিবার’ ফোন না দিতে বলেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, আবাসিক হলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া প্রত্যাশিত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানা সাংবাদিকদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকতা একধরনের ফাতরামি ছাড়া কিছু নয়। যে শিক্ষার্থী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমি খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজনে তার সিট বাতিল করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘হলের হাউস টিউটরদের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। হাউস টিউটররা আমাকে অবহিত না করলে কোনো উড়ো ফোন কলের ভিত্তিতে আমি ত্রিশালে যেতে পারি না। শুক্রবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি না। সরাসরি আমাকে ফোন না করে আগে হাউস টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।’
উল্লেখ্য, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৬ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলে নিরাপত্তা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
মো. সাইফুল ইসলাম/এসএসকে/

