Logo

ক্যাম্পাস

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন

Icon

গবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০০:৪৮

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন

‘ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য ও জীবিকার সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের আয়োজনে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে অনুষদের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংসদের জিএস রায়হান খান বলেন, ‘এই দিবস বন্যপ্রাণী ও উপকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের যথাযথ সংরক্ষণ অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বিচারে বন উজাড় ও নগরায়নের ফলে বন্যপ্রাণী আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে, যা মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ভেটেরিনারি অনুষদের ক্লিনিক্যাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাবরিনা ফেরদৌস বলেন, ‘বিশ্বের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নগরায়ন ও বন উজাড়। ফলে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারিয়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে জীবিকা, ওষুধ শিল্পসহ নানা ক্ষেত্রে এখনো বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেবল পরিবেশগত দায় দায়িত্ব নয়, মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। একজন ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে আমাদের উচিত বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে যথাযথভাবে ভূমিকা রাখা।’

ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের চারপাশের প্রতিটি উপাদানই ইকোসিস্টেমের অংশ। তাই এগুলো ধ্বংস করার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে ফল, বিশেষ করে আমে যে ধরনের পোকামাকড় দেখা যায়, যা আমাদের শৈশবে তেমন ছিল না—এসব পরিবর্তনের পেছনে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা বড় কারণ। নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতি তাদের স্বাভাবিক আবাস হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে, যা পরিবেশ ও কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বিলুপ্তির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ০৩ মার্চকে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনটি বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর