ছাত্রদলের হিমেল-আরেফিনের নেতৃত্বে জবির সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১০
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০:১৩
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টা করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা। ছবি : বাংলাদেশের খবর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টা করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জনের বেশি ক্যাম্পাস সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় দখল করতে যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, জবি ‘সুপার ফাইভ’ নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। হামলার সময় নেতারা অবকাশ ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে হামলার নির্দেশনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন- যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের জুনায়েত শেখ, সময়ের আলোর মোশফিকুর রহমান ইমন, বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জান্নাতুন নাইমসহ আরও অনেকে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনসহ যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, সুমন সরদার, জাফরসহ অন্যান্যরা উসকানি দেন।
আরও জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ এ একক নেতৃত্ব নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ছাত্রদল। পরবর্তীতে ছাত্রদলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক সমিতি দখল করতে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই আজ মনোনয়ন সংগ্রহের দিন ছিল। কিন্তু গতকাল রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছিল। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে আমাদের ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহার এবং আগামী ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেএন/এমবি

