আবাসন সংকটে বেরোবির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী, বাড়ছে ভোগান্তি
ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১৮:০৭
সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১০ শতাংশ আবাসিক হলের সুবিধা পেলেও বাকি প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে মেস ও ভাড়া বাসায়। এতে বাড়তি খরচ, নিরাপত্তাহীনতা ও নানামুখী দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬টি অনুষদের অধীনে ২২টি বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিপরীতে ছাত্র ও ছাত্রী হল মিলিয়ে আসন সংখ্যা মাত্র ৮২৪টি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য বিজয়-২৪ হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হল নামে দুটি হল এবং মেয়েদের জন্য শহীদ ফেলানী হল চালু রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে নির্মাণকাজ থমকে থাকা ১০ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হলসহ মোট আবাসিক হল রয়েছে চারটি।
হলগুলোর মধ্যে বিজয়-২৪ হলে ২৪০টি, শহীদ মুখতার ইলাহী হলে ২৪০টি এবং শহীদ ফেলানী হলে ৩৪৪টি আসন রয়েছে।
আবাসন সংকটের সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে মেসভিত্তিক বাণিজ্য। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া ও নানা অনিয়ম মেনেই থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরাতুল জান্নাত ঊষা বলেন, “মেসে থাকার কারণে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাই না। প্রশাসনের তত্ত্বাবধান না থাকায় বহিরাগতদের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি হলের তুলনায় মেসে খরচও অনেক বেশি, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিমুল হাসান বলেন, “শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মাস্টারপ্ল্যান জমা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হলে নতুন হল নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সংকট অনেকটাই কমে আসবে। সেখানে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আরও কয়েকটি আবাসিক হলের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

