Logo

ক্যাম্পাস

এআই নয়, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানেই দক্ষতা অর্জনের আহ্বান বাকৃবি উপাচার্যের

Icon

জয় মন্ডল, বাকৃবি সংবাদদাতা:

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ২০:০২

এআই নয়, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানেই দক্ষতা অর্জনের আহ্বান বাকৃবি উপাচার্যের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও সংক্ষিপ্ত নোট শিক্ষার সহায়ক হলেও প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য মৌলিক পাঠ্যপুস্তকের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যয়ন, গবেষণামনস্কতা এবং বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, বর্তমানে এআই টুলস ও সংক্ষিপ্ত নোট শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হলেও এগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলে মৌলিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। একজন দক্ষ কৃষিবিজ্ঞানী হতে হলে পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক অধ্যয়ন, গবেষণা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের পথপরিক্রমা’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, আচরণবিধি ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাই শুধু মেধাবী হওয়াই যথেষ্ট নয়; আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পাঠের পাশাপাশি গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় উচ্চগতির ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম, সমন্বিত ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এর ফলে ভর্তি থেকে শুরু করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন