ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের কাজ : প্রেস সচিব
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও পরবর্তী প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে দেশের অনেক গণমাধ্যম আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-জনতাদের জাতির শত্রু হিসেবে তুলে ধরেছিল। এ আন্দোলনে ২ হাজার লোক জীবন দিয়েছে। কিন্তু যদি ফ্যাসিস্টরা জয়ী হতো, তাহলে দুই লাখ লোক জেলে যেত।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করার কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ছাত্রদল বা শিবির যার বিরুদ্ধেই রিপোর্ট হয়, প্রথমে দেখতে হবে রিপোর্ট টা সত্য কি না। সত্যি হলে তা মেনে নিতে হবে।’
জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে শফিকুল বলেন, ‘অনেক গণমাধ্যম আন্দোলনকারীদের ‘জাতির শত্রু’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। গণমাধ্যমের ভাষা ব্যবহার করে তখন শাসকদের কাছে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। আন্দোলনকারীদের দমন করতে বলছিল। আন্দোলনে ২ হাজার মানুষ মারা গেছে। যদি ফ্যাসিস্ট শক্তি জয়ী হতো, তাহলে দুই লাখ মানুষকে জেলে যেতে হতো। তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হতো। আর তখন ন্যারেটিভ হতো যে, কিছু ‘দুর্বৃত্ত’ দেশজুড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল।’
জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা স্মরণ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকরা সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা ঐতিহাসিক। এই আন্দোলনে দেশের টিভি, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ ও অনেক নাগরিক সাংবাদিক ভূমিকা রেখেছে। এর বিপরীতে গিয়ে একটা পক্ষ কনসেন্ট তৈরির চেষ্টা করেছে যে, এই আন্দোলনকারী লোকেরা বিটিভিতে আক্রমণ করেছে, মেট্রোরেলে হামলা করেছে। এরা সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী, এদেরকে এদেরকে মারো।’
তিনি বলেন, ‘তারা সন্ত্রাসী, তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ। এসব হলো মিডিয়ার ভাষা। এখানে যারা সাংবাদিকতা করেন বা করেন না, আপনাদেরকেও মিডিয়ার এই ভাষা বুঝতে হবে। মিডিয়া তার ভাষা দিয়ে নির্দেশ করে দেয়, উনি সন্ত্রাসী, উনি দুর্বৃত্ত।’
শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘জুলাই আমাদের মহত্তম সময়। এই সময় আদের জন্য পূর্বে আর কখনো আসেনি। আমাদের সাংবাদিকরা ১৯৭১-এর যুদ্ধ কতটুকু দেখেছে, আমি জানি না। তখন আমাদের এক কোটি লোক শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। এদের মানবেতর জীবন ও দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে খুব কমই লেখা পাওয়া যায়। এসব নিয়ে আমরা স্টোরি করিনি।’
জেএন/এমজে

