Logo

ক্যাম্পাস

ইউজিসি ও পিএসসিতে রাবি থেকে না নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Icon

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৩৯

অ
ইউজিসি ও পিএসসিতে রাবি থেকে না নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউজিসি ও পিএসসিতে সদস্য নিয়োগ না দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউজিসিতে সর্বনিম্ন একজন এবং পিএসসিতে সর্বনিম্ন দুইজন নিয়োগ দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। 

এ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও  রাবি স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী সজীব  বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্নের কথা বলি সেই নতুন বাংলাদেশের আজও বৈষম্য দূর করতে পেরেছি কি-না এটা আমার প্রশ্ন। ঢাকা কেন্দ্রিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সারা বাংলাদেশে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে সেটি যদি আমরা রুখতে না পারি তাহলে আমরা বৈষম্য কোনোভাবেই দূর করতে পারবো না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিএসসি এবং ইউজিসি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের প্রতিনিধি নিয়োগ না দেওয়ায় এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। এটা রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ মনে করি।

তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার জায়গা থেকে শুধু আন্দোলন-সংগ্রাম নয় গবেষণাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের মানববন্ধন। আমি বলতে চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবিলম্বে ইউজিসিতে সর্বনিম্ন একজন এবং পিএসসিতে সর্বনিম্ন দুইজন নিয়োগ করতে হবে। আমাদের এই দাবি যদি অবিলম্বে কর্তৃপক্ষ মেনে না নেয় সেই ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে কোনো ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির ইসলাম বলেন, বাংলা অভিধানে একটা শব্দ আছে 'কূপমণ্ডূক'। কূপমণ্ডূক হলো কুয়ার সেই ব্যাঙ যে কুয়াটাকেই মনে করে পৃথিবী। আজকের যারা প্রশাসনে আছেন তারাও কুয়ার ব্যাঙের মতো কূপমণ্ডূক কি না। তারা কি শুধুমাত্র ঢাবিকেই গোটা পৃথিবী মনে করে কি না। তারা মনে করে সব জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী শুধু ঢাকা কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। ঢাকার বাহিরেও একটা গোটা দেশ আছে। একটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যেটা কিউএস র‍্যাংকিং অনুসারে বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তিক সকল ক্ষেত্রেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অবদান। ইউজিসির মতো, পিএসসি'র মতো এতো বড়ো একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিনিধি না থাকার মানে হচ্ছে হাস্যকর, নিন্দা ও অমানবিকের মতো আর কিছু হতে পারে না। আমরা অনতিবিলম্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি চাই।

আন্দোলনের সাথে সংহতি জানি ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ও অন্যতম গবেষক ড. মো. ইয়ামিন হোসাইন বলেন, আজকের যে সমাবেশ সেটি আসলে হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা জুলাই বিপ্লবের পর ভাবছিলাম বাংলাদেশের সমস্ত রকমের বৈষম্য দূর হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন এমন গবেষণা করা হয় সেটা বাংলাদেশের কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয় না। আমরা যে গবেষণা করি মাছ নিয়ে সেই গবেষণাগুলো বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয় না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত  ২ শতাংশ সাইন্টিস্টদের যে লিস্ট আসছে সেখানেও আমাদের ১৬ জনের নাম এসেছিল। যেটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদেরকে দেশের কাজে লাগানোর জন্যে দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

এছাড়াও আন্দোলনের সাথে সংহতি জানান কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও আইসিটি বিভাগের পরিচালক সাইফুল ইসলাম। এ সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কেএফ/এমএইচএস

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন