Logo

ক্যাম্পাস

মাকে খুশি করার জন্য রাবিতে ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ সাজেন, অবশেষে আটক

Icon

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:১৪

অ
মাকে খুশি করার জন্য রাবিতে ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ সাজেন, অবশেষে আটক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আইন বিভাগে নাভিক রহমান নামের এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তিনি মাকে খুশি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করে আসছিলেন।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হলে তারা বিভাগের সভাপতিকে বিষয়টি জানান। পরে তাকে প্রক্টর দপ্তরের মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাভিক রহমান দাবি করেছেন, তার মায়ের অনেক আশা ছিল যে, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পাননি। তাই মাকে খুশি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করে আসছিলেন।

তিনি ছদ্মবেশে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাস করছিলেন এতদিন। 

নাভিক রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘুরে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে নিজেকে রাবির আইন বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রোফাইল পিকচারে আইন বিভাগ লেখা একটা টি-শার্ট পরিহিত ছবিও রয়েছে। এ ছাড়া আইন বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। তার ফ্রেন্ডলিস্টে আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকেও যুক্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরুখ মাহমুদ বলেন, ‘তার বিষয়ে ব্যাচমেটদের সন্দেহ হলে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ভুয়া পরিচয় বের হয়ে আসে। এমনকি সে তার গার্ডিয়ান হিসেবে যাদেরকে ডেকেছিল, তারাও ভুয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর বিভাগের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করে প্রক্টর অফিস নিয়ে নাভিক ও তার ভুয়া অভিভাবকদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। গত চার মাসে বিভাগের সবকিছুতে সে উপস্থিত ছিল একদম প্রফেশনাল স্পাই এজেন্টের মতো। সে কোনো গুপ্তচর প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত কি না তদন্ত করা হোক।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকা দরকার বিভাগের সিকিউরিটি নিয়ে। একজন ৪ মাস যাবৎ ক্লাস করেছে, প্রতিটা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে, অথচ আমাদের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইডেন্টিফাই করতে পারেনি, এটা চরম ব্যর্থতা।’

৪২ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ নাহিদ বলেন, ‘ওই ব্যাচে এর আগেও একজন ফ্রড ধরা পড়েছিল। তার নাম ছিল আনিকা। সবাই মিলে তাকে ধরার চেষ্টা করলে পালিয়ে যায় মেয়েটা।’ 

আইন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) শ্রেণি প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান মেহেদী বলেন, ‘আমাদের ক্লাস শুরু হওয়ার প্রথম দিকে এক মাস মতো রোল কল করা হতো না। ওইসময় নাভিককে নিয়মিত ক্লাস করতে দেখেছি। পরে রোলকল শুরু হলে তাকে খুব একটা নিয়মিত দেখা যেত না। তবে বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে অংশগ্রহণ করতে নিয়মিত। আমাদের ১ম সেমিস্টার পরীক্ষায় তাকে উপস্থিত হতে না দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি যে, তার নাম আমাদের শিক্ষার্থীদের তালিকায় নেই।’

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, ‘তাকে বেশ রাতে আটক করা হয়েছে। আমি সশরীরে তখন উপস্থিত হতে পারিনি। প্রক্টর স্যারের সঙ্গে অল্প কথা হয়েছিল। আজ বিস্তারিত কথা বলার পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। এটুকু জেনেছি যে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না। তাই সে আদৌ ক্লাস করেছে কি না, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই ভালো বলতে পারবে।’

রাবির প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ছেলেটি স্বীকার করেছে যে, তার মায়ের অনেক আশা ছিল, তার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। কিন্তু সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পায়নি। তাই মাকে খুশি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিনয় করেছে এতদিন। তাকে থানায় হস্তান্তর করেছি। পুলিশ অধিকতর তদন্ত করে দেখবে বিষয়টি।’

এ বিষয়ে জানতে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মালেকের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এমজে

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন