ঢাবি-সাত কলেজ সংঘাতের নেপথ্যে প্রো-ভিসি মামুন
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১৩:২৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের ‘অশোভন’ আচরণের কারণে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সংঘাতের নেপথ্যে স্বয়ং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদ রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের অফিসে দেখা করতে আসেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মামুন আহমেদ তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘অশোভন’ আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মাফ না চাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন এবং পরে উপ-উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করতে গেলে ঢাবি ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো
১. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিল করা।
২. শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করানো।
৩. শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বিবেচনায় শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করা।
৪. ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্ক যুক্ত করা।
৫. সাত কলেজের ভর্তি ফি’র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাবি ব্যতীত নতুন একটি অ্যাকাউন্টে ভর্তি ফি জমা রাখা।
ঢাবি শিক্ষার্থী আজিজুল হক বলেন, “সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করার অন্যতম কারণ শিক্ষার মানোন্নয়ন কখনোই ছিল না। বরং রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোই এই অন্তর্ভুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাত কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। অথচ একটি ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ঐক্যে ফাটল ধরেছে প্রো-ভিসি ড. মামুন আহমেদ স্যারের আচরণে।
তিনি আরও বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত ১০টায় ভিডিও বার্তা দেওয়ার জন্য বলা হলেও সেটি তিনি রাত ১টায় দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে চূড়ান্ত পর্যায়ের অপ্রফেশনাল আচরণ। শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা আরও সুন্দর, যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য আচরণ প্রত্যাশা করি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্র গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আর কোনো সংঘাত চাই না।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক বলেন, “মাননীয় উপ-উপাচার্য ড. মামুন আহমেদ স্যার কোনোভাবেই গতকালের সংঘাতের দায় এড়াতে পারেন না। অযৌক্তিক কোটা বাতিল, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম চালানোর দাবি যৌক্তিক ছিল। কিন্তু মামুন স্যার তাদের কথা না শুনে ধমক দিয়েছেন এবং অসদাচরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, স্যার তার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু তিনি সেটি না করে ইগো দেখিয়েছেন। রাত ১০টা থেকে তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলা হলেও তিনি সেটি করেননি। সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর রাত ১টায় এসে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তাকে অবশ্যই এই ঘটনার দায় নিতে হবে।”
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, “রবিবার বিকেলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল তাদের দাবি নিয়ে মামুন আহমেদের কক্ষে যায়। সেখানে তিনি তাদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক কথা বলেন এবং আন্দোলনকারীদের ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই তুলনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এখান থেকেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এটি প্রো-ভিসি মামুন স্যারের ব্যর্থতা। তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
এদিকে সূত্র জানায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রবিবার রাত ১০টা থেকেই অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে দুঃখ প্রকাশ করে একটি ভিডিও বার্তা দিতে বলে। কিন্তু তিনি সেটি দিতে গড়িমসি করেন। পরে রাত ১টার দিকে তিনি ভিডিও বার্তা দেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান তাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখেন। কিন্তু এবারই প্রথম প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ খান সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথা বলার কিছু সময় পরেই সংঘাত শুরু হয়।
এমএম/এমএইচএস

