Logo

ক্যাম্পাস

ভর্তিতে কোটা বহাল, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, দাবি পেশ

Icon

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:০৩

অ
ভর্তিতে কোটা বহাল, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, দাবি পেশ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তিতে কোটা পদ্ধতি বহাল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ন্যূনতম স্কোরধারীরা সুযোগ পেলেও মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন তারা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে

১. মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটার সম্পূর্ণ বাতিল এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটার আসন সংখ্যা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।

২. পোষ্য কোটার সম্পূর্ণ বাতিল।

৩. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার হার ২ শতাংশের বেশি না রাখা।

৪. ভর্তি পরীক্ষায় কোটাধারীদের জন্য পাশ নম্বর কোনো অবস্থাতেই শিথিল না করা।

৫. জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজু শেখ বলেন, ‘৩২ নম্বর পেলেও কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে—এটা আমি জানতাম না! বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা অবশ্যই সংস্কার করতে হবে। মেধাবীদের অবহেলা করে কোটা পদ্ধতি টিকিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই।’

শিক্ষার্থী মো. আবু জাহিদ বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২-১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা রেখে বাকি সব কোটা তুলে দেওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে কারা পিছিয়ে আছে, সেটাই এখন পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীরা আরও মন্তব্য করেন, ‘৩ থেকে ৫ শতাংশের বেশি কোটা রাখা অনৈতিক। কোটার হার মোট আসনের ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় এখনো বিভিন্ন কোটার মধ্যে রয়েছে—মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, পোষ্য, হরিজন, দলিত গোষ্ঠী ও খেলোয়াড় কোটা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কোটার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হয়েছেন ১১৮ জন শিক্ষার্থী। যেখানে এ ইউনিট থেকে ৬ জন, বি ইউনিট থেকে ৮৬ জন, সি ইউনিট থেকে ২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন।

এর মধ্যে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন ইউনিট থেকে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন, আর পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন ৪ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসনসংখ্যা ১,১১০ টির মধ্যে কোটায় ভর্তি হয়েছেন ১০.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের দাবি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সাইফুল ইসলাম/এমজে

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন