জবিতে ২ শিক্ষার্থীর উপর হামলা প্রতিবাদে বিক্ষোভ
জবি প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৩১
নারীসহ রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদল কর্মী অনিকের নেতৃত্বে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’ ; ‘উই ওয়ান্ট, জাস্টিস জাস্টিস’ ; ‘আমার ভাইকে মারল কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলটি জবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রফিক ভবনের সামনে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্বে ছাত্রলীগকে যেমন আচরণ করতে দেখেছি, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এসে দেখতে পারছি ছাত্রদল একই আচরণ করছে।
তারা আরও বলেন, পুনরায় যদি ফ্যাসিস্ট আচরণকারীরা ফিরে আসতে চায়, তাহলে পুনরায় ১৫ জুলাইয়ের ডাক দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যদি আইন হাতে তুলে নিতে হয়, তবুও তারা প্রস্তুত থাকবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আাকাশের বন্ধু ও প্রত্যক্ষদর্শী আবুল বাসার বলেন, জুতা পায়ে এক মেয়ে ও ছেলে শহীদ মিনারে উঠলে প্রতিবাদ করেন আকাশ। এরপর তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠা মেয়েটির বন্ধু মাহী আকাশকে ধাক্কা দিতে গেলে আকাশ তার হাত সরিয়ে দেয়। এরপর ছেলেটা তার বন্ধুদের ফোন দিলে প্রায় সাথে সাথে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী এসে অতর্কিত হামলা করে আকাশের উপর। এ সময় আমি ও তামান্না আকাশকে বাঁচাতে গিয়ে আঘাত পাই।
তিনি আরও বলেন, আমার বন্ধুর উপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। প্রথমে আাকাশকে এমনভাবে লাথি মারা হয়, সে দূরে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় প্রক্টর স্যার সহযোগিতা করার বদলে আামদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পড়তে বলেন। প্রশাসন এমন কথা বললে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?
জাস্টিস ফর জুলাইয়ের আহ্বায়ক সজিবুর রহমান বলেন, একটি সংগঠন বলেছে, আমরা যেন তাদের ভুলভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেই। কিন্তু সেই দলেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির প্রোগ্রামে ভিন্ন একটি দলের ট্যাগ দিয়ে সেখানে অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। সেই একই কর্মী গতকাল (বুধবার) শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করল। তার মানে সেই সংগঠনের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কথাগুলো মেকি। আমরা এখনো দেখতে পারছি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছাত্রলীগের কারো বিচার হয়নি। যার ফলে একটি দল মনে করছে, তাদের কাজের বিচার হবে না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ছাত্রলীগ যেমন আচরণ করেছে, আমরা দেখতে পারছি ছাত্রদলও একই আচরণ করছে। আমরা এটা আশা করি না। তাদেরকে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখতে চাই। প্রশাসনের অবহেলা দেখতে পারছি এ ঘটনায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল আলীম আরিফ বলেন, এক পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে হত্যা-ধর্ষণ করেছে। আমরা এক নব্য ফ্যাসিস্টদের দেখতে পারছি যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। আমরা আপনাদের অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে রাজনীতি করেন। আমরা প্রশাসনকে বলব, তারা যেন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে।
জান্নাতুন নাইম/এমজে

