রাবিতে পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগ নেতা আটক
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:৩৭
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একাডেমিক পরীক্ষা দিতে এসে আটক হয়েছেন জুবায়ের জিহান নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য ছিলেন।
রোববার (২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষে তাকে আটক করা হয়।
জিহান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আইবিএ শাখার যুগ্ম সম্পাদক। তার বাবা ডা. এফ এম এ জাহিদ আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি।
জানা যায়, জুবায়ের পরীক্ষা দিতে আসার খবর পেয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আইবিএ চত্বরে গিয়ে তাকে আটক করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সহযোগিতায় মতিহার থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য শেখ নুর উদ্দিন আবির, আহ্বায়ক সদস্য আবির হাসান হিমেল ও ছাত্রদলকর্মী শাহরুখ।
ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য জিহানের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের যোগসূত্র আছে। নিষিদ্ধ সংগঠন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিক দত্তের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং রোববার রাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ তাদের অবৈধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে মিছিল করেন এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ওর (জিহান) রাজনৈতিক কোনো পরিচয় জানতাম না। সে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আজকে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা সকালে এসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় তাকে পরীক্ষার পর আটক করে। আমি তখন প্রক্টর অফিসকে জানাই এবং তারা আসলে ওর পরীক্ষা শেষে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে পুলিশ কাছে সোপর্দ করি।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের এক নেতা পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরোনো কোনো মামলায় তার নাম আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম থাকলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’
কামরুজ্জামান ফাহাদ/এমজে

