Logo

ক্যাম্পাস

ভর্তি পরীক্ষা

জাবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগের প্রশংসায় ভর্তিচ্ছু-অভিভাবকরা

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:৫০

অ
জাবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগের প্রশংসায় ভর্তিচ্ছু-অভিভাবকরা

শুরু হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) স্নাতক সম্মান ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এ ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখা নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের এ উদ্যোগ ও কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো। ছাত্রশিবিরকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

প্রতি বছর জাবির ভর্তি পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিজেদের অবস্থান জানান দেয় নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে। ইসলামী ছাত্রশিবিরও তার ব্যতিক্রম নয়। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ভর্তিচ্ছুদের জন্য তথ্য সহায়তা ডেস্ক, অভিভাবকদের জন্য রয়েছে ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’। যেখানে বিশ্রামের পাশাপাশি সময় কাটানোর জন্য রয়েছে বিভিন্ন ইসলামিক বই ও পত্রিকা। রয়েছে বিভিন্ন ফটক ভিত্তিক সহয়তা কেন্দ্র, জরুরি মেডিকেল সেবা, দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ঢাকার পীরেরবাগ থেকে আগত অভিভাবক সাইফুর রহমান বলেন, প্রথমেই আমি তাদের এ ব্যবস্থাপনাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমার ছেলের ‘এ’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষা ছিল। রাস্তায় জ্যামের কথা চিন্তা করে আমরা একটু আগেই রওনা করলেও খুব একটা জ্যাম না পাওয়ায় দ্রুতই চলে আসি। এদিকে এত সময় কি করব সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। কোথাও একটু বসে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হাঁটতে হাঁটতে ছাত্রশিবিরের এই গার্ডিয়ান লাউঞ্জ চোখে পড়ে। তাদের বুথে গিয়ে কথা বলতেই তারা আমাকে সেখানে বসার ব্যবস্থা করে দেয়। অভিভাবকদের জন্য অভিনব আয়োজন আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। আরো চমকপ্রদ হয়েছি এখানে রাখা ইসলামিক বই ও পত্রিকা দেখে। সচরাচর এগুলো তেমন দেখা যায় না। এছাড়াও তাদের আন্তরিক ব্যবহার ও সহায়তার ধরন আমাকে বিমোহিত করেছে। এমন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জাতি গঠনের অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

পাবনা থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নাফিজ আহমেদ বলেন, আমি পাবনা থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখানে তেমন পরিচিত কেউ নেই। ফলে কোথায় থাকব সেটা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। এলাকার এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ছাত্রশিবিরের এক ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। দুটি ইউনিটের পরীক্ষা থাকায় আমাকে তিন দিন থাকতে হয়েছে। এ তিনদিন আমি তাদের তত্ত্বাবধানেই ছিলাম। আমার সাথে আরও দুইজন পরীক্ষার্থী ছিলেও। তারা ময়মনসিংহ থেকে এসেছিলেন। তারা সার্বক্ষণিক আমাদের গাইড করেছেন। শিবিরের প্রতি একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল যা পুরোপুরি দূর হয়েছে। 

জানতে চাইলে ছাত্রশিবির জাবি শাখার সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব বলেন, ছাত্রশিবির জাবি শাখা এবারের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকছে। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছেন তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করছি। প্রত্যেকটা হলে থাকার ব্যবস্থা করেছি; পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরেও থাকার ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীদের তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে একটি ‘ইনফরমেশন বুথ’ ও অভিভাবকদের বসার জন্য ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ করেছি। অসুস্থদের প্রাথমিক সেবার জন্য প্রাথমিক মেডিকেল সেবার ব্যবস্থা রেখেছি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে কলম ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো বাইক সার্ভিস না থাকলেও যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাবস্থাও করছি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের পাশে সবসময় আছে ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতেও দেখা যায়।

  • শাহরিয়ার আলম/ওএফ
Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন