Logo

ক্যাম্পাস

আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:৪২

অ
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণার দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে (ডেইরি গেট) গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ভারতীয় দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘সন্ত্রাসলীগের প্রেতাত্মারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ কর, করতে হবে, করতে হবে’, ‘খুনি হাসিনার বিচার করো, কর‍তে হবে, করতে হবে’, ‘ভারতীয় রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘বাকশালের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে একটি সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাবি শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক হলেও আজ আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বৈষম্য ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিছিলে শামিল হয়েছি। আমরা দেখেছি, সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের রক্তের বিনিময়ে আমাদের রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। যে রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, সাত মাস পরেও অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আজ আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার থেকে যত দ্রুত সম্ভব ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিচার চাই। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকে তাদের সব ধরনের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করুন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে যে দলটি আছে, তারা আজকেই ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছে এমনটি নয়, তারা পচাত্তরেও ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর নির্বাচনের কথা তারা ভুলে যায়। একের পর এক আমরা তিনটি ভুয়া নির্বাচন দেখতে পাই। এর মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে যখন অধিকারের জন্য লড়লাম, তখন আমাদের ভাইদের রক্তে এই রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখলাম না। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিচার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে চিরতরে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা আজকের মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে হলফ করে বলতে চাই, পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ থেকে সচিবালয় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যে দোসররা আছে, সবাইকে অপসারণ করতে হবে। আওয়ামী লীগকে এই দেশের মাটি থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবীদের ওপর হামলা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে, বিপ্লবীরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার যদি অপরাধমূলক কাজ করতে চায়, তাহলে সেটিকে আমরা আর প্রশ্রয় দিতে চাই না। ৩৬ দিনে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সাম্রাজ্য ছাত্র-জনতা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল, আপনাদের হটাতে আমাদের ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না।’

আমানউল্লাহ খান/এমজে

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন