ছাত্রদল নেতাকে লিফটে সিগারেট খেতে নিষেধ করায় মারধর ও হুমকির অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৩০
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলের লিফটে সিগারেট খেতে নিষেধ করলে শিক্ষার্থীকে মারধর এবং পরে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হলের ৪ নম্বর লিফটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত ঐ ছাত্রদল নেতার নাম পারভেজ মোশাররফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম নাইমুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হলের লিফটের সামনে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা না শুনে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
ভুক্তভোগী নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেন, আমার ভর্তিচ্ছু এক ক্যান্ডিডেট আসায় তাকে বিদায় দিয়ে রুমে ফিরছিলাম। আমি তাজউদ্দীন হলের ৪নং লিফটে উঠি। তখন একটা ছেলে সিগারেট হাতে লিফটে আসে। আমি তাকে বলি হল কর্তৃপক্ষ থেকে নিষেধ আছে লিফটে সিগারেট খাওয়া যাবে না, এটা বিপজ্জনক। তখন, সে উত্তেজিত হয়ে যায়। তার পরিচয় জানতে চাইলে সে নিজেকে মাইক্রোবায়োলজি ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন আমি আমার পরিচয় দেই। আমি ৪৮তম ব্যাচের লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, সে আমার জুনিয়র এটা জানার পরে সে আরও ক্ষিপ্র হয়ে আমাকে তুইতোকারি শুরু করে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার গায়ে হাত তোলে। আশেপাশের লোকজন তখন আমাদের আলাদা করে দেয়। সে চলে যাওয়ার সময় বলে, আমাকে হলে পেলে ইচ্ছামতো মারবে। এ ঘটনায় আমি অনিরাপদবোধ করছি এবং আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী বলেন, আমাকে ফোন দিয়েছিল ঐ শিক্ষার্থী। ঘটনাটি আমি জেনেছি। আমাদের হল অফিস বন্ধ আছে। আগামীকাল খুলবে। ভুক্তভোগী যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা তদন্ত কমিটি করবো। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আমানউল্লাহ খান/এমএইচএস

