ছবি : বাংলাদেশের খবর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলে লুঙ্গি চুরি করতে এসে ইনজামাম নামের এক ছাত্রদল কর্মী ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টায় সূর্য সেন হলের উত্তর ব্লকের ৩১৫ নম্বর কক্ষের সামনের থেকে লুঙ্গি চুরি করে বস্তায় তোলার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। পরে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হল প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, আটকের পর প্রথমে তার নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তার কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। লুঙ্গি বস্তায় কেন ঢুকাচ্ছেন—এমন প্রশ্ন করলে ইনজামাম বলেন, এই প্রথম হলে এসেছি। পরে তার মোবাইল ফোন চেক করেন শিক্ষার্থীরা। তার ফোনে ছাত্রদলের পূরণ করা সদস্য ফর্ম পাওয়া যায়। এ ছাড়া ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে ছবি এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, মোবাইল ফোন, চার্জার লুঙ্গিসহ নানান জিনিসপত্র চুরি করার কথা স্বীকার করেন ইনজামাম। মুরাদ নামের এক লোকের কাছে পুরাতন জামাকাপড় ও মালামাল বিক্রি করে বলে জানায় সে।
ইনজামাম জানান, স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রদল কর্মী আল আমিন ও সানির শেল্টারে বিগত এক বছর ধরে হলে থেকে আসছিল সে। বিনিময়ে আলা আমিনকে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন এবং জামাকাপড়। এছাড়া ৩০১ নাম্বার রুমে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতা কর্মীদেরকে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতো সে।
এদিকে ইনজামাম হলের ছাত্রদল কর্মী আল আমিন, মাসুম, বাদশাহ, এহসান ও সানির সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করে। এভাবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ও স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলে।
এদিকে লুঙ্গি চুরি ছাড়াও হলে পুরাতন মোবাইল বিক্রি শুরু করে ইনজামাম। মোবাইল বিক্রির কথা বলে হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা খেয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের এমদাদুল হকসহ একাধিক শিক্ষার্থী।
স্যার এ এফ রহমান হল প্রভোস্ট কাজী মাহফুজুর রহমান সুপন বলেন, ‘৩০১ নম্বর রুমে যারা অবস্থান করছে তাদের প্রত্যেককে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হলের জিনিসপত্র চুরির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন আমরা তাকে (যুবক) নিয়ে বসেছি। আমাদের হাউস টিউটররা আসছেন। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখনো তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
এমএমআই/এমআই

