Logo

রাজধানী

খরতাপে পুড়ছে রাজধানী

‘এই গরমে তিনটি ভাড়া তুলতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত’

Icon

জয় খ্রীষ্টফার বিশ্বাস

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৪:৩৬

অ
‘এই গরমে তিনটি ভাড়া তুলতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত’

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সূর্যের জ্বলন্ত রশ্মিতে রাজধানীর পথঘাট, সড়ক-মহাসড়ক উত্তপ্ত হয়ে আছে। পিচঢালা রাস্তায় পা রাখলেই মনে হবে জ্বলন্ত উনুন। এই খরতাপে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষদের নাভিশ্বাস উঠছে। ঈদযাত্রায় ঘরমুখি মানুষেরাও অস্বস্তিতে ভুগছেন এই গরমে। 

চৈত্রের শুরু হতে না হতেই খড়তাপে পুড়ছে নগর। সকাল সকাল তীব্রতা নিয়ে হাজির হচ্ছে সূর্য। বেলা ১২টা নাগাদ মাথার ওপর তাপের পারদ উঠে ৩৬/৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে! এতে খরতাপে বিপর্যস্ত নগরজীবন। ইট-কাঠের এই জাদুর নগরে একটু শীতলতা মেলা ভার। এ অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। হাপিত্যেশ করছে প্রাণিকুলও। যাপিত জীবনের বেড়াজালে বাইরে যাদের বের না হলেই নয়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চৈত্রের কিরণ যেন গিলে ফেলে তাদেরও।

রিকশাচালক মোতালেব বলেন, ‘চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসেছিলাম, আজ রিকশা চালাই। এই গরমে তিনটি ভাড়া তুলতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ঈদে সন্তানদের নতুন জামা কিনে দিতে পারব কি না, জানি না। সবাই বাবার অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু আমি ব্যর্থ..."—বলতে বলতে তার চোখে জল গড়াল।

মোতালেব আক্ষেপ করেন, ‘জীবনটা সত্যি অদ্ভুত। ঈদ চলে এলো। পারছি না পরিবারের জন্য কিছু করতে। ছেলেমেয়েরা এই সময়ের অপেক্ষায় থাকে, কবে বাবা আসবে, হাতে করে জামা, চুড়ি, ফিতা কিনে আনবে। ভাবছিলাম এই কদিনে কিছু টাকা রোজগার করব। কিন্তু গরমে প্যাডেল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এই রোজার মধ্যে। তিনটি ভাড়া তুলতেই প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কী আর করব। সন্তানদের জন্য কিছু করতে না পারলে নিজেকে অপরাধী বাবা মনে হয়।’

কয়েকটি ভাড়া তুলতেই শরীর অবসন্ন, তবু থামার উপায় নেই রিকশাচালকদের। ঈদের ২/১ দিন বাকি আর। কীভাবে সংসার চালাবেন, সন্তানদের নতুন জামা কিনে দেবেন—সেই চিন্তায় তারা ব্যাকুল। তারওপর চলছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সিয়াম সাধনায় নিমগ্ন। সংযম ও আত্মশুদ্ধির চেষ্টায় দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমে রোজা রেখে রিকশা চালানো কঠিন। 

তবে সড়কের দিকে তাকালে চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র। ঈদকে পরিবার-পরিজনদের সাথে কাটাতে রোজা রেখেই খরতাপের মধ্যে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, আবার কেউ কেউ ট্রাক ভাড়া করে মাথার উপর তীব্র রোদ নিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। কষ্টকে আলিঙ্গন করে পরিবারের সাথে ঈদ উপভোগ করতেই থেমে নেই তারা এই খরতাপেও।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসেই মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯.৯ মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১.৯ তীব্র তাপপ্রবাহের অন্তর্ভুক্ত। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়ে গেলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

চলতি মাসেই ঢাকার তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। আর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এই ক্যাটাগরির ভিত্তিতে ঢাকায় এখন মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহও হতে পারে।

এমন তাপদাহের কারণে গত বছর চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দিয়েছে ডিএনসিসি। কিন্তু তার ফলাফল দৃশ্যমান ছিল না। তাই এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন অনেকে। 

এই গরমে করণীয় সম্পর্কে নানা পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বেশি করে পানি পান, শ্রমজীবীদের ঘাড় আর মুখে ভেজা কাপড় দিয়ে বারবার মোছা, সুযোগ হলেই ছায়ায় একটু বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। একইসাথে দীর্ঘমেয়াদে সবুজায়নের পাশাপাশি নগরজুড়ে শেড নির্মাণ করাটাও প্রয়োজন। তাহলে অন্তত হিট স্ট্রোক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কেসি/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন