Logo

রাজধানী

বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, ২ নাইজেরিয়ানসহ গ্রেপ্তার ৩

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫, ১২:৪০

বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, ২ নাইজেরিয়ানসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর ভাটারা ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ধরা পড়েছেন দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক এবং তাদের সহযোগী এক বাংলাদেশি নারী। রোববার (৬ জুলাই) ও সোমবারের (৭ জুলাই) বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগের নামে দেশে প্রতারণার জাল বিছিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন নাইজেরিয়ার ফ্র্যাঙ্ক কোকো (৩৬), এম্যানুয়েল (৩৫) ও বাংলাদেশি সুইটি আক্তার (২৭)। র‌্যাব-১ জানায়, অভিযানে প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক ল্যাপটপ, আইফোন, ট্যাবলেট, বাটন ফোন, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, এই চক্র সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষত ব্যবসায়ী শ্রেণিকে টার্গেট করত। কখনও ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ী সেজে বিলাসবহুল জীবনের ছবি দিয়ে ইনবক্সে যোগাযোগ করত। এরপর ‘ডলার ইনভেস্ট’ বা ‘রিয়েল এস্টেট প্রজেক্টে বিনিয়োগ’ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের নামে টাকা হাতিয়ে নিত।

প্রতারকদের ব্যবহৃত কৌশল ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তারা ফটোশপে তৈরি করত ভুয়া ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের লোগোসংবলিত নথি, এমনকি বিদেশি পাসপোর্টও। এসব বিশ্বাসযোগ্য নথি দেখিয়ে সহজে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত।

র‌্যাব জানায়, বিদেশি সদস্যরা সরাসরি মাঠে না নামলেও স্থানীয় নারী সহযোগীদের ব্যবহার করত টাকা উত্তোলন ও লেনদেনে। এরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য নিজেদের নাম, এনআইডি ও ফোন নম্বর ব্যবহার করত এবং প্রতারণা করা টাকার ১০-১৫ শতাংশ কমিশন পেত।

গ্রেপ্তার সুইটি আক্তারের নামে খোলা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে কয়েক মাসে লাখ লাখ টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। আর ফ্র্যাঙ্ক কোকো অন্তত দুই বছর ধরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, দুটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এখনো এসব অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটির আরও শাখা সক্রিয় রয়েছে। তাদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র দেশীয় কিছু দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটর, সিম রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম, লজিস্টিক সাপোর্ট কোম্পানিগুলোর নজরদারির অভাব ও শিথিলতা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

তারা বলছেন, প্রতিটি লেনদেনের মোবাইল নম্বর যাচাই করলে প্রতারণাকারীদের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে তথ্যের অভাব, ছদ্মবেশী পরিচয় এবং নামজালিয়াতির কারণে তদন্তে জটিলতা বাড়ছে।

র‌্যাব বলছে, চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • এনএমএম/এটিআর

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গ্রেপ্তার ঢাকার খবর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন