Logo

রাজধানী

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০২

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

দেশে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য (ইলেকট্রনিক বর্জ্য) ব্যবস্থাপনার যথাযথ নীতি প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডাব্লিউইইইই (ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক একুইপমেন্ট) সোসাইটি বাংলাদেশ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২১ সালের ‘ইলেকট্রনিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস’ কার্যকর না হওয়ায় ভোক্তারা এখনও জানেন না কীভাবে ইলেকট্রনিক বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক খাতে বর্জ্য বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস ২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত রাউন্ড টেবিল আলোচনায় ডাব্লিউইইইই সোসাইটি বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক আকতার উল আলম বলেন, ‘বর্তমানে ই-বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ মূলত অনানুষ্ঠানিকভাবে হচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে রিসাইক্লিং করছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে সমন্বয় নেই, এবং এখনো কোনো এক্সটেন্ডেড প্রোডিউসার রেসপন্সিবিলিটি কাঠামো নেই, যা উৎপাদকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়বদ্ধ করবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্জ্য ও রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক রাজিনারা বেগম জানান, ‘২০২১ সালের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, তবে পুনর্বিবেচনার কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত বিধিমালা কার্যকর করতে দায়িত্বশীল।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা বলেন, ‘ই-বর্জ্য এখন আর কেবল শহর এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামীণ এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই নীতিতে নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘টেলিকম খাতে নেটওয়ার্ক-সম্পর্কিত ই-বর্জ্যের পরিমাণ কম, কিন্তু ব্যবহারকৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে বর্জ্য আসে সবচেয়ে বেশি। হ্যান্ডসেটজনিত বর্জ্যের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা দরকার।’

আলোচকরা আরও বলেন, দেশে ই-বর্জ্য উৎপাদন ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রীয় তথ্য নেই। অবৈধভাবে পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সংস্থা, একাডেমিশিয়ান, গবেষক ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা। ডাব্লিউইইইই সোসাইটি বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তথ্যসূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫০-৩৬৭ মিলিয়ন কেজি ই-বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে, যা মোট বর্জ্যের প্রায় ২.৩%–২.৪%। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ই-বর্জ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন