অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পরও গুদাম থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
রাজধানীর মিরপুরের শিয়াল বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পরও কেমিক্যাল গোডাউনের ভেতর থেকে এখনো নির্গত হচ্ছে ঘন সাদা ধোঁয়া। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এই ধোঁয়া অত্যন্ত বিষাক্ত এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ‘গুদামের ভেতর থেকে এখনো কুণ্ডলীর মতো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে ফায়ার ফাইটারদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ করতে আরও ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।’
বুধবার (১৫ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দল কেমিক্যাল ফায়ার স্যুট পরে গোডাউনের প্রধান ফটক খুলতে সক্ষম হয়, তবে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ভেতরে প্রবেশ সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান জানান, গোডাউনে থাকা নানা ধরনের কেমিক্যাল থেকে টক্সিক গ্যাস তৈরি হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লোরিন গ্যাসও নির্গত হয়েছে, যা মানুষের শ্বাসযন্ত্র, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ঘনবসতি এলাকায় এটি ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘এই টক্সিক গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে মানুষ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করছে। এতে ফুসফুসের ক্ষতি এমনভাবে হতে পারে, যা কেউ বুঝতেও পারবে না। তাই আমরা অনুরোধ করছি- কেউ যেন ঘটনাস্থলে ভিড় না করে। সবাই নিরাপদ দূরত্বে থাকুন এবং অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।’
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আগুনে ভবনটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কলামসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে সরাসরি সার্চ অপারেশন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে কাজ চালাতে আরও ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে।
নিখোঁজদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আলম ট্রেডার্সের মূল ফটক তালাবদ্ধ ছিল, যা যন্ত্রপাতি দিয়ে কেটে খুলতে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে কেউ ছিলেন না। তবে সার্চ অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে- ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে, ভিড় না করতে এবং ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে।
- এনএমএম/এমআই

