নিকুঞ্জে মাদক সম্রাট বাবুসহ আটক ২, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৪
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গত ১৪ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে নিকুঞ্জ এলাকার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর খিলক্ষেত থানা পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে এক অভিযানে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ৩ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল আলীমের নেতৃত্বে নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১৩ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই মাইনউদ্দিন, এসআই জসিম উদ্দিনসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল।
অভিযানকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে ৪০ কেজি গাঁজা, ১৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ লাখ ১ হাজার ৯৬০ টাকা, যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত দুটি ওয়াকিটকি ও চার্জার এবং মাদক সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হন রামিম হাসান বাবু ও ইমতিয়াজ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবু এলাকায় সক্রিয় একটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খিলক্ষেত থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের পর নিকুঞ্জ ও টানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদক দাপট অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা বলছেন, পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরছে।
এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক ও খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর খিলক্ষেত থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে। অফিসার ইনচার্জসহ পুরো টিমের সাহসিকতা ও আন্তরিকতায় মাদক কারবারিরা এখন চাপে রয়েছে। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিকুঞ্জ খুব দ্রুতই মাদকমুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। তিনি জানান, সদ্য যোগদান করা এই টিম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আরও কঠোর হবে।
আইএইচ/

