নিকুঞ্জ-১ এ অজ্ঞান পার্টির আতঙ্ক, প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলছাত্র অচেতন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮
রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নিকুঞ্জ-১ এ প্রকাশ্য দিবালোকে এক স্কুলছাত্র অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাসির রহমান তাহমিদ নিকুঞ্জ-১ এর লেক ড্রাইভ সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। পরিবার ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পেছন দিক থেকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাহমিদের নাকের ওপর টিস্যু পেপারের মতো দেখতে একটি বস্তু চেপে ধরে। এরপর সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অচেতন হয়ে যায়।
প্রায় ৪০ মিনিট পর তাহমিদ নিজেকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখতে পায়। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এ ঘটনায় শারীরিকভাবে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও মানসিকভাবে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলে পরিবার জানিয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিকুঞ্জ-১ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলবেলা এ এলাকায় নিয়মিত শিশু-কিশোরদের হাঁটাহাঁটি ও খেলাধুলা চলে। ঠিক সেই সময় এ ধরনের ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘটনার পরপরই তাহমিদের পরিবার খিলক্ষেত থানাকে বিষয়টি জানায়। খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আলিমের নির্দেশে এসআই মাহফুজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় নিকুঞ্জ–১ এ দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ তাহমিদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘অজ্ঞান পার্টি’র কাজ বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় নিকুঞ্জ–১ এর বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, অভিজাত ও সুরক্ষিত হিসেবে পরিচিত এলাকায় যদি শিশু নিরাপদ না থাকে, তাহলে রাজধানীর অন্য এলাকাগুলোর পরিস্থিতি কী?
বাসিন্দারা সোসাইটি কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইএইচ/

