Logo

রাজধানী

বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারে ঝুঁকছে ঢাকাবাসী

Icon

এম এম হাসান

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১০

বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারে ঝুঁকছে ঢাকাবাসী

গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর

রাজধানী ঢাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সংকট ও এলপিজির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সাধারণ মানুষ নিরূপায় হয়েই কিনছেন। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি খরচের চাপ। লাইনের গ্যাসের জন্য নিয়মিত বিল বহনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চুলা অথবা রাইস কুকার ব্যবহারে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুনতে হবে তাদের।

ঢাকায় বেশ কিছুদিন ধরে লাইনের গ্যাসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণত, তীব্র শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে তরল পদার্থ জমে গ্যাস প্রবাহের চাপ কমে যায়। এবার এর সঙ্গে তুরাগ নদের তলদেশে গ্যাস লাইনের পাইপের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়া এবং কোনো কোনো এলাকায় সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ।

গ্যাসের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে সম্প্রতি ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন মগবাজারের সোলাইমান-সুমি দম্পত্তি। এই দম্পত্তি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘আমাদের বাসায় লাইনের গ্যাসের পাশাপাশি এলপিজি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু শীত শুরু হওয়ার পর লাইনের গ্যাস গভীর রাত ছাড়া তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি দিয়ে দিনের কাজ ঠিকঠাক চলে যাচ্ছিল। তবে, এলপিজি শেষ হওয়ায় পাঁচ-সাত দিন আগে আমরা এক হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস কিনতে গিয়ে দেখতে পাই দাম দুই হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। পরে আমরা বাধ্য হয়েই পাঁচ হাজার টাকায় বৈদ্যুতিক চুলা কিনে এনেছি।’ 

তাদের ভাষ্য, চুলা কিনতে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ের চেয়ে মাসে মাসে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দেওয়াটা আরও বেশি কষ্টকর। ফলে এখন থেকে এলপিজি ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দম্পত্তি।

শুধু সোলাইমান-সুমি দম্পত্তিই নয়, গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছেন তাদের মতো স্বল্প আয়ের অনেকেই। মাসে মাসে লাইনের গ্যাসের জন্য বিল দেওয়ার পাশাপাশি এটি তাদের সংসারে বাড়তি খরচ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।  গত রোববার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের ন্যাশনাল স্টেডিয়াম মার্কেট, পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলা, কয়েকটি রিটেইল চেইনশপ এবং খিলগাঁও, মুগদা, মানিকনগর এলাকার বেশ কয়েকটি খুচরা দোকান ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের বিক্রি বেড়েছে সব ব্যবসায়ীর। মহল্লার দোকানগুলোতে মাসে দুই-তিনটা বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা রাইস কুকার বিক্রি করা যাদের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল তারাও এখন সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনটা বিক্রি করতে পারছেন।

বৈদ্যুতিক চুলার ধরন : বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেডÑ এই দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চুলা রয়েছে। এর মধ্যে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা বেশি। ইন্ডাকশন চুলায় সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু ইনফ্রারেড চুলায় যে কোনো ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়।  ইন্ডাকশন চুলা সরাসরি তাপ তৈরি করে না; এটি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ নীতিতে কাজ করে। চুলার ভিতরের তামার কয়েল বিদ্যুৎ প্রবাহে পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এতে পাত্রের তলদেশে ঘূর্ণি তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। ফলে তাপ সরাসরি পাত্রেই তৈরি হয় এবং চুলার কাচের উপরিভাগ তুলনামূলকভাবে গরম হয় না।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলায় হ্যালোজেন বা ইনফ্রারেড হিটারের মতো শক্তিশালী হিটিং উপকরণ সরাসরি তাপ উৎপন্ন করে। এই উপকরণ গরম হয়ে ইনফ্রারেড বিকিরণ ছড়ায়, যা সূর্যের আলোর মতো পাত্রকে গরম করে। এটি মূলত পুরোনো ইলেকট্রিক কয়েল চুলার আধুনিক রূপ, যেখানে তাপ সরাসরি স্থানান্তরিত হয়। ফলে চুলা চালু হলে উপরিভাগের কাচের প্লেট লাল হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই তাপ বিকিরণ ঘটে।

কারা উৎপাদন করছেন এবং কত দামে পাওয়া যায় : যেসব কোম্পানি হোম অ্যাপ্ল্যায়েন্স পণ্য তৈরি করে, তাদের প্রায় সবারই বৈদ্যুতিক চুলা রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজী, মিয়াকো, ফিলিপস প্রভৃতি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা বেশি বিক্রি হয়। এর বাইরে নোভা, প্রেস্টিজসহ বেশ কিছু অপরিচিত ও নন-ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলাও বাজারে পাওয়া যায়। 

বিক্রেতাদের ভাষ্য, সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায় বলে ইন্ডাকশন চুলার চেয়ে ইনফ্রারেড চুলার দাম কিছুটা বেশি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা সাড়ে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে, ইন্ডাকশন চুলা সর্বনিম্ন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর চুলার দাম নন-ব্র্যান্ডের থেকে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি থাকে। তবে, চাহিদা বিবেচনায় এখন নন-ব্র্যান্ডের চুলাও পরিচিত ব্র্যান্ডের দামে বিক্রি করতে পারছেন অনেকে। বাড়ছে রাইস কুকারের বিক্রিও: ঢাকায় বৈদ্যুতিক চুলার পাশাপাশি বাড়ছে রাইস কুকারের বিক্রিও। অনেকে বৈদ্যুতিক চুলার চেয়ে রাইস কুকার ব্যবহার তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। এতে, সব ধরনের রান্নার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও বিকল্প মাধ্যম হিসেবে রাইস কুকারে ঝুঁকছেন অনেকেই।  গুলিস্থান ন্যাশনাল স্টেডিয়াম মার্কেটের রাইয়ান ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, রাইস কুকারের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। ছোট সাইজের রাইস কুকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছর শীতে বিক্রি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এবছরও বেড়েছে। 

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি সাইজের রাইস কুকার বিক্রি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাইজ- এক দশমিক আট লিটার (নন-স্কি কুকার)। এই সাইজেরর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে এবং এই সাইজের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, দুই লিটার থেকে দুই দশমিক আট লিটারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা এবং মাল্টিফাংশনাল/ডিজিটাল মডেলের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাইস কুকার সাত হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বিকেপি/এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ঢাকার খবর গ্যাস সরবরাহ গ্যাসের দাম তিতাস গ্যাস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর