Logo

রাজধানী

‘সাকরাইন’ উৎসবে ঘুড়ি-নাটাইয়ের ভাটা

জান্নাতুন নাইম

জান্নাতুন নাইম

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩০

আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৬

‘সাকরাইন’ উৎসবে ঘুড়ি-নাটাইয়ের ভাটা

আজ (বুধবার) পৌষ মাসের শেষ দিন। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন বা পৌষসংক্রান্তি আজই উদযাপিত হয়। একসময় এদিনে আকাশজুড়ে অসংখ্য রঙিন ঘুড়ি দেখা যেত। তবে এ বছর সাকরাইন এলেও সেই ‘ঘুড়ি-নাটাইময়’ চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়েনি। ঘুড়ির সংখ্যা যেমন কম ছিল, উৎসবের সামগ্রিক আবহও ছিল অনেকটাই ম্লান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, লোহারপুল, নারিন্দা, ধোলাইখাল, ধূপখোলা, কাগজীটোলা, মুরগিটোলা, বানিয়ানগর, শাঁখারীবাজার, কলতাবাজারসহ কিছু এলাকায় ছাদে অল্প সংখ্যক ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায়। তবে সূর্যের আলো ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আকাশে রঙিন ঘুড়ির পরিমাণ কিছুটা বাড়ে। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুটা ঘুড়ি উৎসবের ছোঁয়া থাকলেও পরে তা আতজবাজি ও ডিজে গানের দাপটে চাপা পড়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে খোলা জায়গার অভাবে পুরান ঢাকায় ছাদে ছাদে বাঁশ ও সামিয়ানা টাঙিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হতো। কিন্তু এবার ছাদ সাজানো, ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা উৎসব আয়োজনের চিত্র খুব একটা চোখে পড়েনি। শাঁখারীবাজার, নারিন্দা ও ধূপখোলার কিছু অংশে সীমিত পরিসরে উৎসব দেখা গেলেও গেন্ডারিয়া ও লোহারপুল এলাকায় ছিল প্রায় অনুপস্থিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ধর্মীয় বিতর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে সাকরাইনের উৎসব আমেজ দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের আগ্রহও ঘুড়ি ও নাটাই থেকে সরে গিয়ে ডিজে পার্টি ও আতশবাজির দিকে ঝুঁকছে, যা ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের মূল রূপকে ব্যাহত করছে।

সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা সাদিক বলেন, শৈশব থেকেই আমরা ঘুড়ি উৎসব দেখে আসছি। আগে আশপাশের প্রতিটি বাড়ির ছাদেই আয়োজন থাকত। এখন সেই সংস্কৃতি ডিজে পার্টির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে।

ধূপখোলার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের দাদু-পরদাদারা এই উৎসব পালন করে এসেছেন। কিন্তু এখন এটিকে বিদআত বলা হচ্ছে। গান-বাজনার কারণে উৎসবটি বিতর্কিত হয়ে পড়ছে। এতে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চাপা পড়ে যাচ্ছে।

সাকরাইন বা পৌষ মাসের বিদায়ী দিনে পুরান ঢাকায় বাড়ি বাড়ি ধুম পড়তো পিঠা-পায়েসের। ক্রমে ক্রমে সেসব সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে পুনরায় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছেন সংস্কৃতি প্রেমীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ঢাকা থেকে আসা মানুষের প্রভাবে সাকরাইন উৎসব ডিজে গান, আতশবাজি এবং অশ্লীলতায় ভরে গিয়েছিল।

এবিষয়ে আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মানস বোস বলেন, গত কয়েকবছর এই উৎসব সংস্কৃতির বাইরে উদযাপিত হয়ে আসছিল। তবে আমরা চেষ্টা করছি সেই জায়গা থেকে বের হয়ে নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে। সাকরাইনের পূর্বের ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে আতশবাজির শব্দে শিশুদের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাকরাইন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাকরাইনে ঘুড়ি ওড়ানো অনুমোদিত হলেও ডিজে গান, ফানুস ও আতশবাজি নিষিদ্ধ।

সাকরাইনের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল হক বলেন, ঘুড়ি ওড়ানোয় পুলিশের কোনো আপত্তি নেই। তবে রাতে ডিজে পার্টি, ফানুস ও আতশবাজি বন্ধ রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলও রয়েছে।

জেএন/আইএইচ/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

দিবস উদযাপন ঢাকার খবর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর