Logo

রাজধানী

২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না বাড়িভাড়া, দিতে হবে ছাদের চাবি

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১২

২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না বাড়িভাড়া, দিতে হবে ছাদের চাবি

ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের অধিকার সুরক্ষায় বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ বাস্তবায়নে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এতে বলা হয়েছে, দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেবেন। অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেটের চাবি শতভাগ প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ নির্দেশিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নগর ভবনে এ উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএনসিসি। এতে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন। বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন করবেন। অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেটের চাবি শতভাগ প্রদান করবেন।

নির্দেশিকায় বলা হয়, ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেবেন। বাড়িওয়ালা প্রতি মাসে ভাড়ার নির্দিষ্ট রশিদ দেবেন এবং ভাড়াটিয়া ভাড়া দেওয়ার সময় স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন। ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। নিরাপত্তা/শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে ভাড়াটিয়াকে জানাবেন এবং বাস্তবায়নের আগে সম্মতি নেবেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তিসংগত সমাধান করতে হবে। মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ২ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন–জুলাই।

নির্দেশিকায় আরও রয়েছে, ২ বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। ২ বছর পর মানসম্মত/দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা আগে মৌখিক সতর্ক করবেন ও তাগাদা দেবেন। তাতেও ভাড়া না দিলে সময়সীমা বেঁধে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং পূর্ব স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন। 

আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে হলে ২ মাসের নোটিশে উভয় পক্ষ চুক্তি বাতিল করতে পারবেন। মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ ও বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ—সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িভাড়ার বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশ এর বেশি হবে না।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালার সাথে লিখিত চুক্তিতে কোন শর্তে ভাড়া, করণীয় কী, চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা, কখন বাড়ি ছাড়বেন-এসব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে; স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সহায়তা করবেন। 

যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতির আলোচনায় সমাধান করতে হবে। সমাধান না হলে পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জানাতে হবে। নির্দেশিকাটি ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের মেনে চলতে সচেতন করা এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ/জটিলতা সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করার কথা বলা হয়েছে।

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর