শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক পবিত্র বড়ুয়া গ্রেপ্তার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪
পবিত্র কুমার বড়ুয়া। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি স্কুলে চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) নির্যাতনের শিকার হয় শিশুটি। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ওইদিন দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনে-হেঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাপি শাড়ি পরিহিত এক নারী শিক্ষক শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন। একই সময় এক পুরুষ শিক্ষক স্ট্যাপলার হাতে নিয়ে শিশুটির মুখের সামনে ধরে ভয় দেখাচ্ছেন।
ঘটনার সময় শিশুটির চোখে-মুখে চরম আতঙ্ক দেখা যায়। এই নিষ্ঠুরতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরই ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার নামে এ ধরনের সহিংস আচরণ শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেলে। পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— কোথাও শারীরিক শাস্তির কোনো বৈধতা নেই। শিশুটির ওপর এই মানসিক ও শারীরিক আঘাতকে তারা জীবনের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া অন্য অভিযুক্তদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
এমএইচএস

