Logo

রাজধানী

পে-স্কেলের দাবিতে যমুনা ঘেরাও, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১

পে-স্কেলের দাবিতে যমুনা ঘেরাও, জলকামান ও  সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

ছবি : সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ সরকারি চাকরিজীবীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান ও  সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নেন হাজারো চাকরিজীবী। এ সময় তাদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এর আগে সকাল থেকেই ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তারা যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা যমুনার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে যমুনার ফটকে অবস্থানের ফলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও সংলগ্ন এলাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রমও এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তবে টিয়ারশেল নিক্ষেপের পরও অনেক আন্দোলনকারী এলাকা ছাড়েননি।

বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে-কমিশন গঠন করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। বারবার আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করায় তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজকের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় আমরা রাজপথ ছাড়ব না এবং বাড়ি ফিরে যাব না।’ দাবি আদায়ে এর আগে তারা টানা তিন দিন কর্মবিরতি পালন করেছেন বলেও জানান।

অন্তর্বর্তী সরকার এখনই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল। গত ২৭ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছিলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়নের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের এমন অবস্থানের কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

যমুনা অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধা, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড উপেক্ষা করেই তারা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান।

শুক্রবার সকাল থেকে শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে অবস্থান করছেন এবং পুলিশ তাদের সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে। এরপরও আন্দোলনকারীরা পিছু না হটলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের সব বাধা ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যমুনার মূল ফটকের দিকে এগিয়ে যান এবং সেখানে অবস্থান নেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ঢাকার খবর আন্দোলন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর