ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
রাজউকে ওমর ফারুককে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩০
প্রতীকী ছবি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা জোন-১-এ কর্মরত প্রধান ইমারত পরিদর্শক ওমর ফারুককে ঘিরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ঘুষ বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা অনুমোদনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের চক্র গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র, নথিপত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ লঙ্ঘন করে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেন এবং দাপ্তরিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে অর্থ আদায় করেন। নিয়মবহির্ভূত স্থাপনার নকশা অনুমোদন, পরিদর্শন প্রতিবেদনে অনিয়ম এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে মৌখিক ছাড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরা অঞ্চলের গাজীপুর, সারাবো ও কুনিয়া মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনকে কার্যত একটি অলিখিত শর্তে পরিণত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কুনিয়া মৌজায় একটি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অনিয়মের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্ল্যান অনুমোদন থেকে শুরু করে পরিদর্শন রিপোর্ট ও ফাইল নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপেই অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থ প্রদান না করলে ফাইল জটিল করে ফেলা, বিলম্ব সৃষ্টি এবং হয়রানির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
চাকরিজীবনের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ওমর ফারুক ২০১৮ সালে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে রাজউকে যোগদান করেন। একই সময়ে মোংলা পোর্ট কর্তৃপক্ষের চাকরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে প্রধান ইমারত পরিদর্শক পদে পুনরায় নিয়োগ পান। এই সময়ের মধ্যে দায়িত্বে না থেকেও বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দাবিতে রাজউকের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ ছাড়া এক পর্যায়ে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে বদলি করার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ফ্ল্যাট, প্লটসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো সঠিক নয়, এটি একটি মহলের ষড়যন্ত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং নগর পরিকল্পনা ও নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা মনে করছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

