Logo

রাজধানী

আড়াই মাস ধরে বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই বসবাস

বংশালে ফ্ল্যাট কিনে দুর্ভোগের শিকার এক পরিবার

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০৭

বংশালে ফ্ল্যাট কিনে দুর্ভোগের শিকার এক পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পুরান ঢাকার বংশালের একটি পরিবারের সদস্যরা। ফ্ল্যাট কেনার পর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসিব চৌধুরী ও নিশাত জাহান নামের ভুক্তভোগী দম্পতি। ফ্ল্যাটের দলিল চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভবন মালিকের অত্যাচার, নানা হয়রানি, হুমকির মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

একই সঙ্গে ভবন ছাড়া করাতে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। ফলে দুই শিশু সন্তান, অসুস্থ বাবা ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটির সদস্যরা। সংসদ সদস্য, থানা পুলিশ, স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না পরিবারটি। 

অভিযোগ উঠেছে, ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা নগদ প্রদান এবং ডেকোরেশনের জন্য ১৫ লাখ টাকা খরচ করেও উল্টো হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে পরিবারটি। ফ্ল্যাটটির দলিল দিচ্ছেন না ভবন মালিক শামিম আরা পুতুল। উল্টো দুই মাস ধরে ওই পরিবারের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন ভবন মালিক। 

হাসিব চৌধুরী ও তার স্ত্রী নিশাত জাহান অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকার বংশালের মকিম বাজার এলাকায় ১৬৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে (সাদেক টাওয়ার) পরিচয়ের সূত্রে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা। ফ্ল্যাটটির ক্রয়মূল্য ধরা হয় ৫৫ লাখ টাকা। 

একই ভবনে ছয় তলায় ফ্ল্যাটে মর্টগেজ নিয়ে বসবাস করছে তাদের শাশুড়ি কানিজ ফাতেমার পরিবার। ৮ তলায় আরো একটি ফ্ল্যাট মর্টগেজ নেওয়া হলেও এখনো বুঝে পাননি কানিজ ফাতেমা। 

হাসিব চৌধুরী বলেন, যেহেতু একই ভবনে শ্বশুর-শাশুড়ি থাকেন, এ কারণে আগে থেকেই ভবন মালিক শামিম আরা পুতুলের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, বিশ্বাসের বশে কোনো দলিল ছাড়াই ভবন মালিককে আমরা ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য গত বছরের আগস্ট মাসে নগদ ৩০ লাখ টাকা দেই। এ ছাড়া পরে আরো ২০ লাখ টাকার চেক দেই।

তিনি জানান, তবে শর্ত ছিল দলিল দেওয়া সাপেক্ষে ভবন মালিক ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। পরবর্তীতে হাসিব ভবন মালিক শামিম আরা পুতুলের পরামর্শে ফ্ল্যাটটি ১৫ লাখ টাকা খরচ করে ডেকোরেশন করে এবং বসবাস শুরু করেন। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই অন্য ফন্দি আটেন ভবন মালিক পুতুল। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই ভবন মালিক পুতুল আমাদের ২০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এসময় আমি দলিল পাওয়া সাপেক্ষে ২০ লাখ টাকা দেব বলে জানাই। কিন্তু দলিল দিতে গড়িমসি করেন ভবন মালিক। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বলেন। 

হাসিব অভিযোগ করেন, দলিল চাওয়ায় নানা হুমকি দেওয়া শুরু করেন ভবন মালিক। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে স্ত্রীসহ বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটিসহ গণ্যমান্যদের কাছে ধরনা দেন তিনি। এতে আরও ক্ষিপ্ত হন পুতুল। 

হাসিব জানান, ফেব্রুয়ারিতে রোজার মাসে তাদের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রতিকার পেতে বংশাল থানায় ছুটে যান। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় ভবন মালিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে পুলিশ কয়েক দফায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। 

এভাবে প্রায় আড়াই মাস ধরেই হাসিব ও তার পরিবার বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া বসবাস করে আসছেন। শিশু সন্তান নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। 

হাসিব অভিযোগ করেন, ভবন মালিক পুতুলের নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। তাদের ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এখন মর্টগেজ নিয়ে বসবাস করা শাশুড়ির ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন তিনি। তাদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। এমনকি প্রতিনিয়ত নানা হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এই অবস্থার প্রতিকার পেতে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এ ব্যাপারে ভবন মালিক শামিম আরা পুতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে দেবেন না বলে জানান। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন