বিজয় রাকিন সিটির প্রশাসকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১৭:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কাফরুলের বিজয় রাকিন সিটির প্রশাসক আবু মো. ইশতিয়াক আজিজের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।
গত শনিবার বিকালে বিজয় রাকিন সিটির ভেতরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ওই সিটির মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্যরা, সাতটি ভবনের পরিচালনা কমিটি এবং সাড়ে তিন শতাধিক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলে ‘দুর্নীতিবাজ প্রশাসকের অপসারণ করতে হবে’, ‘দুর্নীতিবাজ প্রশাসক ইসতিয়াকের বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘প্রশাসকের দুর্নীতি মানি না, মানবো না’, ‘ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, দুর্নীতিবাজ প্রশাসকের কালো হাত’সহ নানা স্লোগান দিয়ে বিজয় রাকিন সিটি প্রদক্ষিণ করেন বিক্ষোভকারীরা।
মানববন্ধনে বিজয় রাকিন সিটির অ্যাপার্টমেন্ট ওনার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি ও ফ্ল্যাট মালিক সরদার ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পট পরিবর্তনের পরে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতিকে ভেঙে দেওয়া হয়। সেখানে অতিরিক্ত সচিব আবু মাসুসকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তার দায়িত্ব ছিল ৯০ দিনের মধ্যে সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তু তিনি তা না করে ফান্ডের এক কোটি ১৭ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। আরও এক কোটি ৫২ লাখ টাকা লুটপাটের চেষ্টা করেছিলেন। তা আমাদের এবং সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমাদের আবেদনের ভিত্তিতে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তা বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে একটি মামলা করে।’
সরদার ইলিয়াস বলেন, ‘ওই দুর্নীতিবাজ প্রশাসকের পর নতুন প্রশাসক আবু মো. ইশতিয়াক আজিজে যোগদান করেন। তিনি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না দিয়ে আগের প্রশাসককে অনুসরণ করে ইতোমধ্যে ৭০ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধেও সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।’
ফ্ল্যাট মালিকদের হুমকির কথা উল্লেখ করে ইলিয়াস বলেন, ‘এইভাবে যদি আমাদের কষ্টার্জিত এবং সদস্যদের চাঁদার অর্থ একের পর এক লুটপাট হয়ে যায়, তাও আবার সরকার থেকে নিয়োগ করা লোকেরা, তাহলে তো আমাদের কিছুই থাকবে না।’
ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৭ সালে আমাদের সমিতির রেজিস্ট্রেশন হয়। ১৯৯৯ সালে আমরা সরকার থেকে বাজার মূল্যে জায়গাটি পাই। পরবর্তীতে ডেভেলপার কোম্পানি রাকিনের সঙ্গে চুক্তিতে আমরা ফ্ল্যাট পেয়ে বসবাস করি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসক কিছু সন্ত্রাসী লোক নিয়ে এসে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা অফিসের তালা ভেঙে অফিস দখল করেন। সেই সঙ্গে যেসব ফ্ল্যাট মালিক দূরে রয়েছে, সেসব ফ্ল্যাট দখল করে ভাড়া দিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিটি ফ্ল্যাটে চিঠি দিয়ে তার অনুমতি ছাড়া কেউ ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন। অথচ গৃহায়ণ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রি করার জন্য আমাদের অনুমতি রয়েছে।’
মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসকের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমরা শঙ্কিত, হতাশাগ্রস্ত। দুর্নীতির মাধ্যমে প্রশাসক যে টাকা আত্মসাৎ করেছেন, সেটা ফেরত দেওয়ার এবং সরকারের কাছে তার বিচার দাবি করছি।’
প্রকৌশলী এটি এম খালেদুজ্জামান বলেন, ‘প্রশাসক বিভিন্ন মিথ্যাচার করে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় এবং পরিবারের সদস্যদের মানহানি ও হেনস্তা করছেন। সেই সঙ্গে তাদের ফ্ল্যাটগুলো দখলের হুমকি দিচ্ছেন। যার কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমারা এটি কোনোভাবেই সাপোর্ট করি না। তার অপসারণ ও আমরা তার বিচার চাই।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা সেটা না করে আমাদের অর্থ লুটপাট করে খাচ্ছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রশাসক আবু মো. ইশতিয়াক আজিজ বলেন, ‘আমি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি। আমি রাকিন সিটি প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ১১টি মামলা ছয় মাস ধরে পরিচালনা করছি। যার মধ্যে ৯টি মামলার বিবাদী আমি এবং দুটি মামলার বাদী আমি। এ ছাড়া আমার বেতনের টাকা, অফিস মেরামত এবং অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ করেছি, যা কমিটিকে জানিয়ে এবং তাদের কাছে বাজেট পেশ করে পাস করার পর করা হয়েছে।’
উল্টো অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘একটি বড় মাফিয়া চক্র রাকিন সিটি অবৈধভাবে দখল ও লুটপাট করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু আমি এতে বাধা দিলে তারা না পেরে মানববন্ধন করেছেন।’
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

